বিকাশে করণীয়
শিশুর শারীরিক বিকাশের পাশাপাশি মানসিক বিকাশটাও জরুরি। তবে শিশুর মানসিক বিকাশের জন্য শিশুকে নিয়ে কোনো বিশেষজ্ঞের কাছে দৌড়াতে হবে না। যেকোনো বাবা মা ধৈর্য ও নমনীয়তার সঙ্গে শিশুর মানসিক বিকাশে সাহায্য করতে পারেন।
আনন্দময় সময় কাটান
মা হলো শিশুর আনন্দের প্রথম চাবিকাঠি। মা আশপাশে থাকলে শিশুর মুখে হাসি আসে সহজেই। শিশুর সঙ্গে বেশি সময় কাটালে, খেলাধূলা করলে এক দুইজনের মাঝে এক ধরনের মধুর সম্পর্ক তৈরি হয়। হাসি-খুশিময় এই সময়ে শিশু বেশ আনন্দিত থাকে। যা কিনা শিশুর মানসিক বিকাশ ও ভবিষ্যৎ সুখের জন্য দরকারি।
নতুন দক্ষতা অর্জন
শিশুদের নানা ধরনের দক্ষতা অর্জনে সাহায্য করুন ক্রমাগত। এতে তার আত্মবিশ্বাস বাড়বে। যেমন, নিজ হাতে খেতে উৎসাহিত করুন, হাঁটতে দিন, বিভিন্ন জিনিস তৈরি করতে দিন, ছবি আঁকতে দিন। শিশুরা নিজের চেষ্টায় অর্জিত এসব দক্ষতায় আনন্দ অনুভব করে। দক্ষতা নিয়ন্ত্রণের এই আনন্দ মানসিক বিকাশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্যকর রুটিন
শিশুকে প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে পাঠান। এতে করে তার এক ধরনের অভ্যস্থতা তৈরি হয়ে যাবে। তাছাড়া প্রতিদিন একই সময়ে খাওয়ানো, খেলাধূলা এসব তার মন ভালো রাখতে সাহায্য করবে। শিশুর খাবারের দিকে নজর দিন। কোনো খাবার খেতে না চাইলে জোর করবেন না। এতে তার মনের ওপর চাপ পড়বে। খাবারের ওপর অনীহা জন্মাবে।
সমস্যার সমাধান করতে দিন
শিশু কোনো সমস্যায় পড়লে সেটা সমাধানের জন্য হামলে পড়া উচিত নয়। তাকে নিজে সমাধানের চেষ্টা করতে দিন। যেমন হাঁটতে গিয়ে পড়ে গেলে তাকে নিজে উঠে দাঁড়াতে উৎসাহ দিন, কোনো কিছু পড়ে গেলে তাকে তুলতে দিন। প্রতিকূল অবস্থার সঙ্গে লড়াই করে তাকে সফল হতে দিন। এতে তার মানসিক বিকাশ ত্বরান্বিত হবে।
অনুভূতি বুঝতে শেখান
শিশুরা অন্যের অনুভূতি খুব সহজেই বুঝতে পারে। নেতিবাচক বা ইতিবাচক দুই ধরনের অনুভূতিই শিশুরা ধরতে পারে। যা কিনা শিশুর মানসিক বিকাশের জন্য খুবই জরুরি। আপনি কোন কাজ অপছন্দ করছেন কিনা সেটা তাকে বুঝিয়ে বলুন। দেখবেন সে বুঝবে।
শেয়ার করতে শেখান
শিশুকে অন্যের সঙ্গে কোনো কিছু ভাগাভাগি করতে শেখানো খুবই গুরুত্বপুর্ণ। যেমন যখন কোনো ফল খাওয়াবেন তখন শিশুকেও উৎসাহ দিন যাতে আপনাকে বা অন্য কাউকে খাইয়ে দেয়। কিংবা যখন মুখে ক্রিম লাগাবেন তখন তাকেও সুযোগ দিন আপনার মুখে ক্রিম লাগিয়ে দিতে। এতে শিশু সামাজিক হয়ে উঠবে। এমন ছোট ছোট একেকটা মুহূর্ত অন্যদের প্রতি তার সংবেদনশীলতা বিকশিত করতে পারে।
বেবি সেন্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী লায়লা আরজুমান্দ
