পাঁচ উপদেষ্টাকে বহাল রাখলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০১৯, ০২:৫৬ এএম

মন্ত্রিসভা থেকে হেভিওয়েট মন্ত্রীদের বাদ দেওয়া হলেও উপদেষ্টারা ঠিকই থাকছেন। গত মেয়াদে যারা উপদেষ্টা ছিলেন এবারও তাদের ওপরই ভরসা রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত মেয়াদে তারা প্রধানমন্ত্রীকে যে বিষয়ে পরামর্শ দিতেন এবারও সেই দায়িত্বই পালন করবেন। গতকাল রাতে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

আগের মতো প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করবেন এইচ টি ইমাম, অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী এবং নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিককে নতুন করে উপদেষ্টা পদে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন গত মেয়াদের ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে আরও একজন উপদেষ্টা এ তালিকার সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন পরে জারি করা হতে পারে।

গত ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের পর ৭ জানুয়ারি শপথ নেন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। নতুন মন্ত্রিসভায় ঠাঁই হয়নি আগের মন্ত্রিসভার ৩৪ জনের। তাদের মধ্যে ২৩ পূর্ণমন্ত্রী, ৯ প্রতিমন্ত্রী ও ২ উপমন্ত্রী রয়েছেন। দায়িত্ব পালনে বিতর্কে জড়িয়ে পড়া এবং বার্ধক্যের কারণে তাদের এ পরিণতি হয়েছে। মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েছেন আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মতিয়া চৌধুরী, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মোহাম্মদ নাসিমের মতো ডাকসাইটে মন্ত্রী। শুধু আওয়ামী লীগ নেতাদেরই বাদ দেওয়া হয়নি, বাদ পড়েছেন শরিক দলের নেতা আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেননও।

মন্ত্রিসভা থেকে ডাকসাইটে মন্ত্রীদের বাদ দেওয়ার পর সংশ্লিষ্টরা ধারণা করেছিলেন উপদেষ্টাদেরও আর রাখবেন না প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু সেই ধারণা ভুল প্রমাণ করে পুরনো পরীক্ষিতদের ওপরই আস্থা রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। উপদেষ্টারা মন্ত্রী পদমর্যাদা ভোগ করেন। তাদের নির্দিষ্ট দপ্তর থাকলেও তারা কোনো ফাইলে স্বাক্ষর করতে পারেন না।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ওই মেয়াদে তার কোনো উপদেষ্টা ছিলেন না। কিন্তু দ্বিতীয় মেয়াদে ২০০৮ সালে সরকার গঠনের সময় তিনি একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেন। সেই উপদেষ্টা পরিষদে ড. আলাউদ্দীন আহমেদ শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ও সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণের পর উপদেষ্টা পরিষদেও তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। কেবল সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী এবং ড. আলাউদ্দীন আহমেদকে উপদেষ্টা পরিষদ থেকে বাদ দেওয়া হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত