বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬ গুণ শিক্ষার্থী বেড়েছে, শিক্ষক বাড়েনি

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০১৯, ০৩:৩২ এএম

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ৭ হাজার ৯৫৪ জন, অথচ শিক্ষক ১৪০ জন। অর্থাৎ, প্রতি ৫৭ শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক! বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এই অনুপাত ৫৪:১। একই চিত্র দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) এক হিসাব অনুযায়ী, গত ১০ বছরে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ছয়গুণ। আনুপাতিক হারে শিক্ষকের সংখ্যা বাড়েনি।

সম্প্রতি ইউজিসি প্রকাশিত ‘বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার অর্জন (২০০৯-২০১৮)’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশে বর্তমানে ৪৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে ৪৪টিতে। অন্যদিকে গত ১০ বছরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। ২০০৯ সালে যেখানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল ৫১টি, সেখানে ২০১৮ সালে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ১০৩-এ। বর্তমানে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে ৯৫টির।

২০০৯ সালে দেশের ৫১টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ লাখ ৩ হাজার ৭০৯ জন শিক্ষার্থী ছিল। বর্তমানে দেশের ৯৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৩৩৩ জন শিক্ষার্থী। যা ২০০৯ সালের তুলনায় ৩ দশমিক ৪১ গুণ বেশি। এই অনুপাতে শিক্ষক নিয়োগের হার বাড়েনি। উদাহরণস্বরূপ, ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সে শিক্ষার্থী-শিক্ষকের অনুপাত ৮৬:১। ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে প্রতি ৪৫ শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন একজন।

২০০৯ সালে দেশের ৩১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে (অধিভুক্ত ও অঙ্গীভূত কলেজ-মাদ্রাসাসহ) মোট শিক্ষার্থী ছিল ১৩ লাখ ৮২ হাজার ২১৬ জন, সেখানে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ৩৭ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিল ৩৬ লাখ ৬ হাজার ১৩৭ জন শিক্ষার্থী। যা ২০০৯ সালের তুলনায় ২ দশমিক ৬০ গুণ বেশি। জাতীয়, উন্মুক্ত ও ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় এবং অধিভুক্ত ও অঙ্গীভূত কলেজ-মাদ্রাসা ছাড়া শুধু ৩৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮৬৬ জনে। এর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন ১৩ হাজার ৫৮০ জন।

এ হিসাবে ৩৪ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী-শিক্ষকের অনুপাত ২১:১। তবে কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এ অনুপাত ৫:১ আবার কোথাও ৫৭:১। কিছু কিছু বিভাগে একজন শিক্ষককে ১০০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থীকে পড়াতে হচ্ছে। কোথাও একজন শিক্ষক ৫-২০ জন শিক্ষার্থীকে পড়াচ্ছেন।

শিক্ষক সংকটের প্রভাব নিয়ে ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর তুলনায় যে পরিমাণ শিক্ষক থাকা প্রয়োজন তার অনেক কম রয়েছে। উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নের স্বার্থে শিক্ষার্থী-শিক্ষক রেশিওটা কমিয়ে আনা উচিত। আমরা আমাদের প্রতিবেদনে এর চিত্র তুলে ধরি, শিক্ষক সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্যও বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষকে জানাই।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিশেষ করে সিনিয়র শিক্ষকের সংকট বেশি। বিশেষজ্ঞ শিক্ষকের সংকট থাকলে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে বাধা পেতে হয়। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বলেছি, যেসব শিক্ষক অবসরে গিয়েছেন তাদেরকে চুক্তিভিক্তিক নিয়োগ দিতে, অনেকেই দিচ্ছে। তারপরও সংকট রয়ে গেছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত