রোববার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সিলেটে ফখরুল

নির্বাচন নিয়ে সংলাপ হলে যেতে পারে ঐক্যফ্রন্ট

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০১৯, ০৩:৫০ এএম

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আবারও সংলাপের বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আলোচনার বিষয়বস্তু জানা গেলে সংলাপে বসার বিষয়টি বিবেচনা করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। সংলাপে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হলে আমরা হয়তো যেতে পারি।’ গতকাল সোমবার দুপুরে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু ভোটের আগেও তো সংলাপ হয়েছিল, অথচ সেই সংলাপ অর্থবহ হয়নি। অর্থহীন সংলাপে ঐক্যফ্রন্ট আর যেতে চায় না। এরপরও সংলাপে নির্বাচন ইস্যুতে আলোচনা হলে যাওয়ার ব্যাপারটি আমরা বিবেচনা করব।’ জামায়াত প্রসঙ্গে ড. কামাল হোসেনের দেওয়া বক্তব্যের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এটা উনার ও গণফোরামের বক্তব্য। এটা ঐক্যফ্রন্টের বক্তব্য নয়। জামায়াত নিয়ে ঐক্যফ্রন্টে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে আমরা আমাদের দলের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা করব।’ আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে যে নির্বাচন কমিশন আছে, তারা সম্পূর্ণ অযোগ্য। গত ৩০ ডিসেম্বর তারা কীভাবে নির্বাচন আয়োজন করেছে দেশবাসী তা দেখেছে। তাদের অধীনে আগামীতে কী নির্বাচন হবে সেটা নিয়ে প্রশ্নের অবকাশ নেই। ’ তিনি আরও বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচনে সরকার পরিবর্তন হবে না। এটা স্থানীয় সরকার নির্বাচন। তাই এতে অংশগ্রহণ করা না করা মুখ্য বিষয় নয়।’

গতকাল বেলা পৌনে ১২টার দিকে মির্জা ফখরুল ছাড়াও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের মহাসচিব হাবিবুর রহমান (বীরপ্রতীক) প্রমুখ বিমানের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে সিলেটে আসেন। প্রথমে তারা স্থানীয় বিএনপির নেতাদের সঙ্গে নিয়ে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহ পরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। পরে তারা সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ) আসনে বালাগঞ্জ উপজেলায় ভোটের দিন গুলিতে নিহত ছাত্রদল নেতা সায়েম আহমদ সুহেলের বাড়িতে যান। ঐক্যফ্রন্টের নেতারা সুহেলের বাবা-মাসহ স্বজনদের সান্ত্বনা দেন এবং তার কবর জিয়ারত করেন।

গত ৩০ ডিসেম্বর আজিজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে গুলিতে নিহত হন বালাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সুহেল। তার বাড়িতে আয়োজিত শোকসভায় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ভোট ডাকাতি প্রতিরোধ করতে গিয়ে সুহেল নিজের জীবন দিয়েছে। সুহেলের এই আত্মত্যাগকে প্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করে অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, “বালাগঞ্জ-বিশ্বনাথের জনপ্রিয় নেতা এম ইলিয়াস আলীর খোঁজ আজও দিতে পারেনি সরকার। ইলিয়াসের ছোট মেয়ে তার মাকে প্রশ্ন করে, ‘আমার বাবা কোথায়’।”

বিএনপি নেতা কামরুল হুদা জায়গীরদারের সভাপতিত্বে ও মুজিবুর রহমানের পরিচালনায় শোকসভায় বক্তব্য রাখেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, আ স ম আবদুর রব, সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসীন মন্টু, সাবেক এমপি শফি আহমদ চৌধুরী, নিহত সুহেলের চাচাতো ভাই লুৎফুর রহমান প্রমুখ।

ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতাদের কর্মসূচিতে স্থানীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গত সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ (মহানগর-সদর) আসনের প্রার্থী বিএনপি নেতা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ, বিএনপি নেতা কলিমউদ্দিন আহমদ মিলন, আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, আজমল বখত সাদেক, রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, আবদুল আহাদ খান জামাল প্রমুখ।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত