রাশিয়ার সরকারের সঙ্গে কোনো সম্পর্কের দাবি উড়িয়ে দিয়ে নিজেকে রুশ এজেন্ট নন বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সোমবার নিউ অরলিন্সে যাওয়ার আগে হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি এ কথা বলেন বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি রাশিয়ার এজেন্ট নই। কখনো রাশিয়ার হয়ে কাজ করিনি এবং তা আমার চেয়ে আপনারাই ভালো জানেন। আমার মনে হয় আমাকে এমন প্রশ্ন করা মানে অপদস্থ করা। কারণ এটা একটা ধাপ্পাবাজি।’
দুদিন আগেও ফক্স নিউজের এক অনুষ্ঠানেও ট্রাম্পকে এমন প্রশ্ন করা হয়েছিল। ফক্স নিউজের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি কোনো উত্তর দেননি। শুধু বলেছিলেন, ‘আমাকে এমন প্রশ্ন করাটাও অপমানজনক।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় আড়াই শ বছরের ইতিহাসে এর আগে কোনো প্রেসিডেন্টকে এমন প্রশ্ন করা হয়নি। এমনকি ১৯৭১ সালে রিচার্ড নিক্সনকে আমেরিকার শত্রু উপাধি দেওয়া হলেও তাকেও এমন প্রশ্ন করা হয়নি।
২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ অভিযোগের পরেই ট্রাম্পের সঙ্গে রুশ সংযোগের গুঞ্জন শুরু হয়। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ কাউন্সেল রবার্ট মুয়েলার দেড় বছরের বেশি সময় ধরে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে গত এক সপ্তাহে ট্রাম্পের রুশ সংযোগ নিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট এবং নিউইয়র্ক টাইমস বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনের পরই মূলত আবারও বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে আসে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের কী কথা হয়েছে তা যাতে অন্য কেউ না জানতে পারে, তাই কোনো সহযোগী ছাড়াই একান্তে বৈঠক করেন ট্রাম্প।
২০১৭ সালে প্রথমে হ্যামবুর্গে এবং পরে হেলসিঙ্কিতে এই বৈঠক হয়। হামবুর্গে পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাতের পর ট্রাম্প দোভাষীর কাছ থেকে তার সব নথিপত্র কেড়ে নেন। সেই নথির বর্তমান অবস্থান কেউ জানে না। হেলসিঙ্কি বৈঠকের পর ট্রাম্প তার দোভাষীকে অন্য কারও সঙ্গে আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে কথা না বলতে নির্দেশ দেন। পররাষ্ট্র বিভাগের কোনো প্রতিনিধি না থাকায় তাদের দুজনের কী কথা হয়েছে, কেউ তা বলতে পারে না।
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক প্রধান জেমস ক্লাপার সিএনএনকে বলেন, কোনো সন্দেহ নেই, ট্রাম্প কিছু একটা লুকাতে চাইছেন। সাবেক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্ট্রোব ট্যালবট বলেছেন, আগে কখনোই কোনো প্রেসিডেন্ট কোনো বিদেশি নেতার সঙ্গে তার কথোপকথন নিজের অধস্তনদের কাছ থেকে লুকানোর চেষ্টা করেননি।
