আ. লীগের একটা বড় ক্ষতি হয়ে গেল: মির্জা ফখরুল

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০১৯, ০৭:২৩ পিএম

সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জনগণের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ডক্টর টি আই এম ফজলে রাব্বি চৌধুরীর স্মরণ সভায় তিনি এ কথা বলেন।

এটা আওয়ামী লীগ কেন করল বলে পরিহাস করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এতে আওয়ামী লীগের একটা বড় ক্ষতি হয়ে গেল। আওয়ামী লীগ এ দেশের সবচেয়ে পুরোনো রাজনৈতিক দলের একটি। দলটির গণতন্ত্রের গৌরব উজ্জ্বল অতীত রয়েছে। কিন্তু এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জনগণের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘৩০ডিসেম্বরের নির্বাচন দেশের জনগণ ও আন্তর্জাতিক মহল প্রত্যাখ্যান করেছে। এই নির্বাচনে খোদ আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী ভোট দিতে পারেনি বলে ভেতরে-ভেতরে আক্ষেপ করছে। এই নির্বাচনে মানুষের অধিকারকে হত্যা করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের স্বভাবজাত যে চরিত্র তা আমরা স্বাধীনতার পর থেকেই দেখে আসছি। আওয়ামী লীগ সব সময় মনে করে তারা দেশের মালিক। একই সঙ্গে ভিন্নমতকে তারা সহ্য করে না। জনগণ তাদের কাছে সত্যিকার অর্থে প্রজা। যে কারণে জনগণের অধিকারকে তারা কখনোই স্বীকৃতি দেয় না।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের সংবিধান পরিবর্তন করে আওয়ামী লীগ দেশকে একদলীয় বাকশালে পরিণত করেছে। দুর্ভাগ্যবশত আমাদের যারা বিজ্ঞজন রয়েছেন তারা এ বিষয়টাকে এড়িয়ে গিয়েছেন। এতে একটা জিনিস স্পষ্টভাবে প্রমাণ হয়েছে, বাংলাদেশের সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে তারা ধ্বংস করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে জুডিশিয়াল থেকে শুরু করে আনসার পর্যন্ত রাষ্ট্রের সবগুলো অঙ্গসংগঠন। এই সরকারের ক্ষমতায় যাওয়ার মূল বিষয় হচ্ছে দেশকে একদলীয় শাসনব্যবস্থায় নিয়ে আসা।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনীতিক দল হিসেবে এখন আমাদের দায়িত্ব তা হলো- কোনো মতে যেন হতাশার জন্ম না হয় তার জন্য সজাগ থাকা। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব জাতীয় ঐক্যকে আরও সুসংগঠিত করা।

তিনি বলেন, কেউ যদি মনে করেন এককভাবে সংগ্রাম করে বিজয় লাভ করবেন তাহলে বলব- তিনি সঠিক বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারছেন না। আজকে তাদেরকে পরাজিত করতে হলে জনগণের ঐক্যের কোন বিকল্প নাই। এবং সেই জনগণের ঐক্যের মধ্য দিয়েই আপনাকে বিজয় লাভ করতে হবে।

স্মরণসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সভাপতি ড. জাফারুল্লাহ চৌধুরী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দ। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পার্টির নেতা ও সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা জামাল হায়দার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত