আস্থা ভোটের মুখে টেরিজা মে শর্ত কমালে আলোচনায় আগ্রহী ইইউ

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০১৯, ১০:০৭ পিএম

ব্রেক্সিট খসড়া প্রস্তাবের বিপক্ষে অধিকাংশ ভোট পড়ায় আস্থা ভোটের মুখে পড়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে। গত মঙ্গলবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নি জসসব নিজসশকক্ষ হাউস অব কমন্সে ২৩০ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজয়ের শিকার হন প্রধানমন্ত্রী। এরপরই বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন টেরিজা মে সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন। এই আস্থা ভোটে টেরিজা মে হেরে গেলে দেশটিতে আবারও জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

অনাস্থা প্রস্তাব এনে জেরেমি করবিন বলেন, ‘এর মাধ্যমে এই সরকারের নির্ভেজাল অযোগ্যতার বিরুদ্ধে রায় দেওয়ার সুযোগ পাবে পার্লামেন্ট।’ যদিও বুধবারের আস্থা ভোটে মে’কে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির নেতা আরলিন ফস্টার। বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘সরকারকে আরও ভালো একটি চুক্তি নিশ্চিত করার সুযোগ দেব আমরা।’

গত মঙ্গলবারের হারের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) জানিয়েছে, লন্ডন ব্রেক্সিট বিচ্ছেদ-সংক্রান্ত শর্তাবলি পাল্টালে নতুন করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে এটা হবে ভিন্নমাত্রার ব্রেক্সিট চুক্তি। গতকাল বুধবার ইইউর প্রধান মধ্যস্থতাকারী মিশেল বার্নিয়ার সতর্ক করে বলেন, অগোছালো ব্রেক্সিট যুক্তরাজ্যের জন্য বাজে পরিস্থিতি ডেকে আনতে পারে। পাশাপাশি গোটা ইউরোপেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ব্রিটেন তার জায়গা থেকে এক পা এগিয়ে এলে সবার জন্যই মঙ্গলজনক পরিবেশের সৃষ্টি হবে বলেও তিনি মনে করেন। ফলে ভবিষ্যতে ইইউর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখতে পারবে লন্ডন। তিনি আরও বলেন, ‘কী ঘটতে যাচ্ছে পরবর্তীতে তা ব্রিটিশ সরকারের ওপর নির্ভর করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন একত্রিতই থাকবে এবং একটি কার্যকরী চুক্তি করতে আমরা বদ্ধপরিকর।’

২০১৬ সালের এক গণভোটের রায় অনুযায়ী ২০১৯ সালের ২৯ মার্চের মধ্যে যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বের হয়ে যাওয়ার কথা। পরবর্তী সম্পর্কের রূপরেখা নিয়ে জোটটির সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মে। সেই খসড়া চুক্তি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে অনুমোদনের বাধ্যবাধকতায় ২০১৮ সালের ১১ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে আইন প্রণেতাদের তুমুল বিরোধিতার মুখে ভোটাভুটিতে হেরে যাওয়ার আশঙ্কায় শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করেন প্রধানমন্ত্রী মে।

সাবেক ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন, ‘মানুষের আশার চেয়েও বড় পরাজয়’ ছিল এটি আর এর অর্থ হলো মে চুক্তির মৃত্যু ঘটেছে। এই ফলাফল প্রধানমন্ত্রীকে ব্রাসেলসে ফিরে গিয়ে আরও ভালো চুক্তির দরকষাকষির বিপুল শক্তি জুগিয়েছে। বুধবারের আস্থা ভোটে টেরিজা মে’কে সমর্থন দেওয়ারও ঘোষণা দেন তিনি। সূত্র : এএফপি, বিবিসি

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত