শীতে রোগ-শোকের প্রকোপ একটু বেশিই থাকে। বিশেষ করে বয়স্করা সীমাহীন কষ্ট ভোগ করেন। বয়স্কদের অল্পতেই ঠাণ্ডা লেগে যায়, বুকে কফ জমে যায়, এমনকি সর্দি-কাশিতেও ভোগেন। দুঃখজনক ব্যাপার হলো, এই সামান্য ঠাণ্ডা তথা ফ্লু থেকে নিউমোনিয়া পর্যন্ত হতে পারে। যাকে আমরা বলি ‘কমিউনিটি অ্যাকোয়ার্ড নিউমোনিয়া’। এর বহুবিধ কারণের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, ডায়বেটিস, ধূমপান, কিডনি রোগ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
প্রতিরোধের উপায়
১. শুরুতেই যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বয়স্করা যেহেতু অল্প সর্দি-কাশি, জ্বর, কফ হলে নেতিয়ে পড়েন, তাই একটা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা তথা কফ পরীক্ষা, বুকের এক্সরে, এমনকি রক্ত পরীক্ষাও করতে হবে।
২ মনে রাখবেন, ফ্লুর পর জ্বর, কাঁপুনি, শরীর ম্যাজ ম্যাজ করা, উল্টা-পাল্টা বকা, ক্ষুধামন্দা, মাথাব্যথা, কফের রং পরিবর্তন, শ্বাসকষ্ট হতে পারে। যদিও যুবকদের জন্য ‘মাইকোপ্লাজমা নিউমোনিয়া’ দ্বারাই প্রধানত নিউমোনিয়া হয় কিন্তু বয়স্কদের বেশিরভাগেরই হয়ে থাকে ‘হিমোফাইলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা’ দ্বারা।
৩. যদিও অ্যান্টিবায়োটিকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া ভালো হয় । তারপরও নিজে বা কারও কথা শুনে অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করবেন না। ভালো হবে যদি কফ কালচার করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করা যায়।
৪. পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করার বিষয়টি খুবই জরুরি। বয়স্কদের সেবা করতে হলে অবশ্যই হাতের নখ ছোট রাখা, বিছানার চাদর, তোয়ালে, রুমাল পরিষ্কার রাখতে হবে।
পরিবারের কেউ যদি সর্দি, হাঁচি, কাশিতে আক্রান্ত হয় তবে তাকে আলাদা করে রাখতে হবে।
৫. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এনে এবং স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস থাকলে তা বাদ দেওয়াই শ্রেয়।
৬. হাঁপানি থাকলে ইনহেলার এবং ওষুধের যথাযথ ব্যবহার শিখে নিতে হবে।
৭. শীতের আগেই নিউমোনিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা ইত্যাদির টিকা নেওয়া ভালো।
৮. পুষ্টিকর খাবার তথা তরল ও গরম খাবার, ফিজিওথেরাপি, কফ বের করা, কয়েক স্তরে জামা-কাপড় পরে ঠা-া লাগা থেকে নিজেকে বিরত রাখুন।
সম্পাদনায় : শেখ শাহরিয়ার পান্না
