খেলাধুলার বাজারমূল্য দিনকে দিন বাড়ছে

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:৩৬ এএম

যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এ দেশের ক্রীড়াক্ষেত্র এখনো বাণিজ্যিক চিন্তধারায় এগিয়ে যেতে পারেনি ততটা। খেলাধুলা যে অনেক বড় পণ্য হয়ে উঠতে পারে, এক ক্রিকেট বাদে অন্য কোনো খেলা সংশ্লিষ্ট মানুষ বিশ্বাসই করতে চান না। উল্টো পথে হাঁটা ক্রীড়াঙ্গন নিয়েও অবশ্য স্বপ্ন দেখেন কেউ কেউ। তাদেরই একজন ফাহাদ করিম। দেশ রূপান্তরের সুদীপ্ত আনন্দ’র কাছে স্পোর্টস মার্কেটিং এজেন্সি কে-স্পোর্টসের এই কর্ণধার দেশের ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে স্বপ্ন এবং পরিকল্পনার
কথা খুলে বলেছেন।

ক্রীড়াঙ্গনে কে-স্পোর্টসের বিচরণটা বিস্তৃত। একটু আপনার কাছ থেকে শুনতে চাই।

 

ফাহাদ করিম : শুরুটা করেছিলাম অনেক আগেই। ২০০৯ সালে সিটিসেল সুপার কাপ আয়োজনের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু। কোটি টাকা প্রাইজমানির ওই টুর্নামেন্ট নিয়ে হুলস্থুল হয়েছিল সেই সময়। মনে আছে মোহামেডান ও আবাহনী ফাইনাল খেলেছিল। চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল মোহামেডান। যাই হোক, সিটিসেলকে ফুটবলে নিয়ে আসার মধ্য দিয়ে শুরু। এরপর ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের ব্রডকাস্টিং রাইটস কিনলাম। তারপর গ্রামীণফোনকে ফুটবলে এনে দিই। ২০১২ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত স্পোর্টসের সঙ্গেই ছিলাম। মাঝখানে কিছুদিনের বিরতি দিয়ে গত দুই বছর আবার শুরু করেছি। ২০১৭ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাছ থেকে বিপিএলের তিন বছরের জন্য অর্থাৎ ২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত গ্রাউন্ডস অ্যান্ড স্পন্সরশিপ রাইটস কিনে নিই। এরপর গত বছর রাশিয়া বিশ্বকাপের ব্রডকাস্টিং রাইটসটা আমরা পাই একটি কনসোরটিয়াম করে। গত বছরই আমরা আয়োজন করি বঙ্গবন্ধু কাপ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। গত বছরের শেষদিকে আগামী তিন বছরের (২০১৮-২০২০) ক্রিকেটের যত হোম সিরিজ আছে তার সব গ্রাউন্ডস রাইটস নিয়েছি আমরা। আর সর্বশেষ গত বুধবার বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ অনূর্ধ্ব-১৯ মহিলা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের আয়োজক স্বত্ব নিয়েছি বাফুফে থেকে।

খেলাধুলা নিয়ে এভাবে চিন্তা খুব কম লোকই করে। আপনি কেন ভাবলেন?

ফাহাদ করিম : ক্রীড়াক্ষেত্রে আসাটা ভালোবাসা থেকেই। খেলাধুলা ভালোবাসতাম বলেই ১০ বছর আগে বন্ধু আশফাক আহমেদকে নিয়ে শুরু করেছিলাম। তবে আসার পর দেখলাম খেলাধুলার বাজারমূল্য দিনকে দিন বাড়ছে। এখন এটা শুধু ভালোবাসা নয়। এটা অনেক বড় ব্যবসাক্ষেত্র। বাইরের দেশে দেখা যায় সবাই স্পোর্টসের সঙ্গে সংযুক্ত হয় এই বাজারটা অনেক সম্প্রসারিত বলে। আমাদের দেশেও এর উজ্জ্বল একটা ভবিষ্যৎ আছে। আমরা বিভিন্নভাবেই ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত আছি। কখনো ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট হিসেবে। কখনো পুরোপুরি টুর্নামেন্ট রাইটস কিনে নেওয়ার মধ্য দিয়ে। এক দশক পথচলা শেষে নিজের প্রতিষ্ঠানকে সেরাদের কাতারে দেখতে পাচ্ছি। এখন আমার চ্যালেঞ্জ এই অবস্থানটা ধরে রাখা।

ক্রীড়াঙ্গনে কাজ করার অভিজ্ঞতা জানতে চাই।

ফাহাদ করিম : এই মুহূর্তে আমাদের প্রতিষ্ঠান দেশের সেরা দুটি খেলার সঙ্গে খুব ভালোভাবে জড়িত। ক্রিকেটের এ সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় ইভেন্টের গ্রাউন্ডস অ্যান্ড মার্কেটিং রাইটস আমাদের কাছে। তাছাড়া ২০২০ সাল পর্যন্ত ক্রিকেটের সবকটি হোম সিরিজের গ্রাউন্ডস অ্যান্ড মার্কেটিং রাইটসও আমাদের কাছে। আর ফুটবলে গত বছর বঙ্গবন্ধু কাপ আয়োজক স্বত্বটা একেবারেই আমাদের হাতে ছিল। বঙ্গমাতার টুর্নামেন্ট রাইটস চুক্তি করার মধ্য দিয়ে আমি মনে করি ফুটবলেও আমার সম্পৃক্তটা অনেক বেড়েছে। তাছাড়া আমরা বেশ কিছু জায়গায় ইনভেস্ট করেছি। যেমন একমাত্র আমাদেরই এলইডি প্যারামিটার বোর্ড রয়েছে। আগে এটা ভারত থেকে আমাদের ভাড়া করতে হতো। কিন্তু এখন এটা আমাদের কাছেই পাওয়া যাচ্ছে। টিভি প্রোডাকশনের দিকেও আমরা নজর দিয়েছি। বঙ্গবন্ধু কাপে আমাদের নিজস্ব প্রোডাকশন বেশ সুনাম কুড়িয়েছে। অভিজ্ঞতা এককথায় চমৎকার।

 ক্রিকেট তো একটা জায়গায় পৌঁছে গেছে। কিন্তু ফুটবল মার্কেটিং করা তো সহজ নয়?

ফাহাদ করিম : আসলে কিছু ক্রিকেটার বিশ্বমানে পৌঁছে যাওয়ায় সবার আগ্রহ থাকে এই খেলাটা নিয়ে। ফলে এটা মার্কেটিং করা খুব কঠিন কিছু নয়। তবে ফুটবলে যেটা হয়েছে, আমি মনে করি এই খেলাটা কখনই খুব ভালো মার্কেটিং হয়নি। যখন ফুটবলে অনেক তারকা ছিল, মানুষের আগ্রহ অনেক বেশি ছিল, তখনো এটাকে পুঁজি করার চেষ্টা হয়নি। ফলে ফুটবল মার্কেটিং একটা চ্যালেঞ্জ। তবে বঙ্গবন্ধু কাপে আমি একটা পরিবর্তন আনতে পেরেছি। সেটা হলো, অতীতে স্পন্সররা মনে করত খুব সামান্য টাকায় ফুটবল পৃষ্ঠপোষণা করা যায়। আমি সেটা ভেঙে দিয়েছি। বঙ্গবন্ধু কাপে যারাই পার্টনার হিসেবে ছিল তাদের আমি বোঝাতে পেরেছি এই খেলাটারও মার্কেট ভেল্যু আছে। এটাকেও আমরা বাজারজাত করেছি বেশ আকর্ষণীয় মূল্যে। আসর শেষে তারা কিন্তু সবাই সন্তুষ্ট এবং কথা দিয়েছে ভবিষ্যতেও তারা থাকবে। এটাই তো বড় অর্জন। বঙ্গমাতার চুক্তি স্বাক্ষরের পর এরই মধ্যে একজন ক্লাইন্ট আমাদের কাছ থেকে জানতে চেয়েছে এটার টাইটেল মূল্য কত হবে। সুতরাং এই খেলাটার আকর্ষণও দিন দিন বাড়ছে।

শুধু কি ক্রিকেট আর ফুটবলেই সীমাবদ্ধ থাকবে আপনার প্রতিষ্ঠান?

ফাহাদ করিম : অবশ্যই না। আমার ধীরে ধীরে আমাদের কর্মক্ষেত্র সম্প্রসারিত করব। আমি চাই ক্রিকেট আর ফুটবলে জায়গাটা শুরুতে শক্ত করতে। তারপরও অন্যান্য খেলাধুলায়ও সম্পৃক্ত হব। কারণ এটা যেমন আমার ভালোবাসা একই সঙ্গে ব্যবসাও।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত