৫০ হাজার বইয়ের নিজস্ব সংগ্রহশালা রয়েছে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের। ব্যক্তিগত পর্যায়ে এটিই বাংলাদেশে বইয়ের সবচেয়ে বড় সংগ্রহশালা বলে মনে করেন তিনি। অর্থমন্ত্রীর পদ থেকে যাওয়ার পর নিজের সংগ্রহশালায় আর কিছু বইয়ের শূন্যতা অনুভব করছেন তিনি। সেই বইগুলো লেখা হয়েছে তারই নির্দেশনায়, প্রকাশিত হয়েছে অর্থ বিভাগ থেকে। ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের পর আরও এক বছর মন্ত্রী হিসেবে থাকার ইচ্ছার কথা জানানো মুহিতের সে সুযোগ হয়নি। তাই মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়েছেন তিনি। প্রস্তুতি নিচ্ছেন হেয়ার রোডের সরকারি বাসা ‘তন্ময়’ ছেড়ে দেওয়ারও। বাসা ছাড়ার আগে সর্বশেষ পাঁচ অর্থবছরের বাজেটের এক সেট করে সব ডকুমেন্টস (বই) ব্যাগসহ চেয়ে অর্থ সচিব আবদুর রউফ তালুকদারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
আবুল মাল আবদুল মুহিতের ব্যক্তিগত কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনকারী মো. আমিরুল ইসলাম প্রামাণিক তার জন্য ২০১৪-১৫ থেকে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছর পর্যন্ত সব বাজেট ডকুমেন্টস সংগ্রহ করছেন বলে জানা গেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, টানা ১০টি বাজেট দেওয়ার অনন্য নজির স্থাপন করা মুহিত ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে তখন পর্যন্ত ঘোষিত পাঁচটি বাজেটের সবকটির ডকুমেন্টস সংগ্রহে রেখেছেন। আগে থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে শেষ মুহূর্তে এক বছর থাকার ইচ্ছা করেছিলেন। সে কারণেই নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হওয়ার আগে তিনি পরের পাঁচ বছরের বাজেট ডকুমেন্টস নেননি। তবে শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভায় জায়গা না পাওয়ায় এখন সংগ্রহ করছেন সেগুলো।
বিদায়ের পর কী করবেনÑ এ প্রসঙ্গে মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায়ের অনুষ্ঠানে মুহিত বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশে করার কোনো ক্ষেত্রের অভাব নেই। আমার সংগ্রহে ৫০ হাজার বই আছে। সব সব পড়া হয়নি, এগুলো পড়ব। আর আমি নিজেও ৩৪টি বই লিখেছি। এর মধ্যে ১২টি ইংরেজি, ২২টি বাংলায়। আরও বই লিখব।’
