রাতে গর্জন, দিনে পায়ের ছাপ, আতঙ্কে দুই গ্রাম

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ০৬:০৭ পিএম

রাত গভীর হলে ভেসে আসে একের পর এক গর্জন। দিনের বেলা দেখা যায় এখানে-সেখানে ছড়িয়ে আছে পায়ের ছাপ। কিন্তু কোথাও তাকে খুঁজে পাওয়া যায় না।

সুন্দরবন সংলগ্ন বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সাউথখালি ইউনিয়নের সোনাতলা ও পানিরঘাট এলাকায় দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে বাঘের আতঙ্ক।

বৃহস্পতিবার সকালে শরণখোলা সুন্দরবনের বাঘের ছাপ দেখতে পেলে এই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বনবিভাগ, ওয়াইল্ড টিম, টাইগার টিম (ভিটিআরটি), কমিউনিটি পেট্রলিং (সিপিজি) গ্রুপের সদস্যসহ কয়েক শ গ্রামবাসী অস্ত্রশস্ত্র, লাঠিসোঁটা নিয়ে ওই এলাকায় বাঘের সন্ধানে তল্লাশি চালায়।

তবে তারা বাঘের দেখা পাননি। বনবিভাগ স্থানীয় গ্রামবাসীদের সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিয়েছে।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের (ডিএফও) মো. মাহমুদুল হাসান এই প্রতিবেদককে বলেছেন, শীত মৌসুমে সুন্দরবন সংলগ্ন শরণখোলা উপজেলার ভারানীর খালে পানি কমে যাওয়ায় বাঘ নদীর পার হয়ে লোকালয়ে চলে আসে।

তিনি জানান, বনকর্মীরা খবর পেয়ে ওই এলাকায় গিয়ে বাঘের ছাপ দেখতে পেয়েছে। বাঘ বুধবার গভীর রাতের কোনো এক সময়ে লোকালয়ে এসে আবার বনে ফিরে গেছে বলে ধারণা করছি। বনবিভাগের পক্ষ থেকে ওই এলাকার মসজিদ এবং হ্যান্ডমাইক দিয়ে স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

সুন্দরবনের ওয়াইল্ড টিমের শরণখোলার মাঠ কর্মকর্তা মো. আলম হাওলাদার বলেছেন, ভোরে গ্রামবাসীর মাধ্যমে বাঘ আসার খবর পেয়ে ভিটিআরটি ও সিপিজি গ্রুপের সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। এ সময় সুন্দরবন বিভাগকে খবর দেওয়া হলে শরণখোলার রেঞ্জ কর্মকর্তার নেতৃত্বে বনবিভাগের একটি দলও সেখানে আসেন। পরে গ্রামবাসীকে নিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু বাঘের কোনো সন্ধান না পেলেও বাঘের পায়ের তাজা ছাপ সবখানেই দেখা গেছে।

সোনতলা গ্রামের আ. সালাম মোল্লা, আউয়াল মাতুব্বরসহ অনেক জানান, রাত ১টা দেড়টার দিকে বাঘের গর্জন শুনতে পেয়েছেন তারা। ভোরে তারা সুন্দরবন বিভাগসহ ওয়াইল্ড টিমের সদস্যদের খবর দেন। বর্তমানে গ্রামের মানুষের মধ্যে বাঘ আতঙ্ক বিরাজ করছে। বাঘের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে স্থানীয়রা বন্দুকসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এলাকায় সতর্কভাবে চলাফেরা করছেন বলেও জানান তারা। 

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) মো. শামসুল হক বলেছেন, বৃহস্পতিবার সকালে লোকালয়ে বাঘ আসার খবর পাই। পরে রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বে আমরা ঘটনাস্থলে যাই।

তিনি জানিয়েছেন, গ্রামের জঙ্গল ও পরিত্যক্ত বাড়ি তল্লাশি করা হয়েছে। প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা নিয়ে রাতে বাঘটি বিচরণ করেছে। সবখানেই বাঘের পায়ের তাজা ছাপ পাওয়া গেছে।

তিনি আরো বলেছেন, ধারণা করা হচ্ছে রাতেই বাঘটি সুন্দরবনে ফিরে গেছে। তবে আবার বাঘ যেন লোকালয়ে ফিরে মানুষের ক্ষতি না করতে পারে সে জন্য এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সুন্দরবনের বগী স্টেশন, তেড়াবেকা টহল ফাঁড়ি ও শরণখোলা স্টেশনের বনরক্ষীদের নদীতে টহলে জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত