নোয়াখালীর সুবর্ণচরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ নিয়ে আলোচনার মধ্যেই জেলার কবিরহাট উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের নবগ্রামে এক গৃহবধূকে গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার গভীর রাতের এ ঘটনায় ধানসিঁড়ি ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি জাকির হোসেনকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের রাতে জেলার সুবর্ণচরে চার সন্তানের জননী এক নারী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। ওই নারীর অভিযোগ, সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক রুহুল আমীনের নেতৃত্বে তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। এ ঘটনায় বিভিন্ন সময় রুহুলসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার রাতে ধর্ষণের শিকার ওই নারী কারাবন্দি এক বিএনপি নেতার স্ত্রী। তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওই হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি নারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে দেশ রূপান্তরকে জানান, গত শুক্রবার রাত ১টার দিকে যুবলীগ নেতা জাকির হোসেনসহ চার থেকে পাঁচজন ঘরে ঢুকে অস্ত্রের মুখে তার মুখ বেঁধে ফেলে। পরে তার সন্তানদের অস্ত্রের মুখে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে একে একে কয়েকজন তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে অজ্ঞান করে ফেলে রেখে যায়। রাত ৩টার দিকে তার সন্তানদের আর্তচিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে। পরের দিন গতকাল শনিবার দুপুরে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়।
ওই নারী আরও জানান, তার স্বামী স্থানীয় বিএনপির কর্মী ও বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদের পক্ষে থাকায় জাকির হোসেনসহ অন্যরা তার বিরুদ্ধে মামলা করে। সেই মামলায় গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর তার স্বামীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ সুযোগে জাকির ও তার সহযোগীরা বারবার তাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। তিনি রাজি না হওয়ায় তারা ধর্ষণের ঘটনা ঘটায়। হাসপাতালে নারীর সঙ্গে যাওয়া এক ব্যক্তিও একই দাবি করেন।
কবিরহাট থানার ওসি মীর্জা মোহাম্মদ হাসান জানান, ওই নারী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (১) ধারায় কবিরহাট থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ ঘটনার প্রধান আসামি জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ফজলে রাব্বী জানান, ওই নারীকে গতকাল দুপুরে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে গাইনি ওয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে। ওই হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) আজিম জানান, ওয়ার্ডে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার চিকিৎসা করছেন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক খলিলুর রহমান জানান, অবশ্যই যতœ সহকারে তাকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়ার জন্য কর্তব্যরত চিকিৎসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আজ রবিবার পরীক্ষার পর ওই নারীর ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
