ভোলায় ঘুমন্ত গৃহবধূ ও ভাগ্নিকে পুড়িয়ে হত্যা

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০১৯, ০৩:০১ এএম

ভোলার লালমোহন উপজেলায় ঘুমন্ত অবস্থায় এক গৃহবধূ ও তার ভাগ্নিকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আগুনে গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন ওই নারীর বোন। গত শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার চরভুতা ইউনিয়নের খরাকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত দুজন হলো মোছাম্মৎ সুরমা (২৫) ও তার বোনের মেয়ে খাদিজা (৮)। আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল মেডিকেল কলেজে হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে সুরমার বোন অংকুরা বেগমকে (৩৮)।সুরমা বোরহানউদ্দিন উপজেলার দেউলা ইউনিয়নের রফিকের স্ত্রী। আর খাদিজা লালমোহনের চরভুতা ইউনিয়নের রফিজলের মেয়ে।
স্থানীয় ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছয় মাস আগে সুরমার সঙ্গে বোরহানউদ্দিনের দেউলা ইউনিয়নের রফিকের বিয়ে হয়। এটা ছিল রফিকের তৃতীয় বিয়ে। এ বিয়ের পর লালমোহনের কর্তারহাট এলাকায় ঘর ভাড়া করে স্বামী-স্ত্রী থাকতেন। কিন্তু রফিক তেমন কাজকর্ম না করায় ঘর ভাড়া ঠিকমতো পরিশোধ করতে পারছিলেন না। এটিসহ বিভিন্ন কারণে প্রায়ই ঝগড়া লেগে থাকত সুরমা ও রফিকের। সালিশও হয় কয়েক দফা।
১০ দিন আগে সুরমাকে রেখে তার স্বামী রফিক অন্যত্র চলে যান। তারপর সুরমা আশ্রয় নেন বড় বোন আংকুরা বেগমের বাড়িতে। গত শুক্রবার রাতে খাওয়ার পর এক বিছানায় ঘুমিয়ে পড়েন সুরমা ও তার ভাগ্নি খাদিজা। গভীর রাতে তাদের মাটির ঘরের পেছন দিয়ে সিঁদ কেটে ঢোকে দুর্বৃত্তরা। চৌকিতে ঘুমন্ত অবস্থায় লেপ-তোশকে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা। সেই আগুনে সুরমার মৃত্যু হয় ঘটনাস্থলেই। গুরুতর দগ্ধ হন বড় বোন আংকুরা ও তার মেয়ে খাদিজা।
দগ্ধ দুজনের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে গিয়ে তাদের শুরুতে ভোলা সদর হাসপাতালে নেয়। পরে সেখান থেকে বরিশাল মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে পাঠানো হলে গতকাল শনিবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খাদিজার মৃত্যু হয়। লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর খাইরুল কবির আগুনে দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি জানিয়েছেন।

ভোলার পুলিশ সুপার (এসপি) মোকতার হোসেন জানান, সুরমার সঙ্গে তার স্বামী রফিকের পারিবারিক কলহ ছিল বলে পরিবারের লোকজন জানিয়েছে। সে কারণেই তিনি ঘরে আগুন লাগিয়ে স্ত্রীকে হত্যা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশের কয়েকটি দল দুর্বৃত্তদের ধরতে কাজ করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত