পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ছাত্রীনিবাসে এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ এনে পাবনা-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। গতকাল শনিবার দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে মহাসড়ক অবরোধ করে তারা। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পেয়ে দুই ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
এদিকে এ ঘটনায় শহরের রাধানগর বটতলা এলাকার আমিরুল ইসলামের ছেলে আসিফ ইকবাল চিন্ময়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাবনা সদর থানার ওসি মো. ওবাইদুল হক জানান, অভিযোগ পাওয়ামাত্রই অভিযুক্ত চিন্ময়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।
পুলিশ ও শিক্ষার্থীরা জানায়, গত শুক্রবার রাতে স্থানীয় তরুণ আসিফ নেশাগ্রস্ত অবস্থায় রাধানগর মহল্লায় পাবিপ্রবির ছাত্রীনিবাসে ঢুকে ছাত্রীদের সঙ্গে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি ও গালাগাল শুরু করে। একপর্যায়ে সে এক ছাত্রীকে হাত ধরে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তখন ছাত্রীদের চিৎকারে মেস মালিক ও তার স্ত্রী এসে তাকে উদ্ধার করে। এরপর ছাত্রীরা মোবাইল ফোনে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষকে জানালে প্রক্টর ড. প্রীতম কুমার দাস সহকারী প্রক্টরদের নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। পরে সদর থানার ওসি ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতারাও সেখানে আসেন। এ সময় চিন্ময়কে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
প্রক্টর প্রতীম কুমার দাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা আমাদের মোবাইলে খবর দিলে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করি এবং থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৮০০ শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র দুটি হল রয়েছে। তাতে স্থান সংকুলান না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের বাইরে মেসে থাকতে হয়। বাইরে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করাও আমাদের জন্য কঠিন।’
প্রশাসন বহুতল বিশিষ্ট নতুন হল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, শিগগিরই এ সংকট কেটে যাবে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করে সহপাঠীদের নিরাপত্তার দাবি জানায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে মহাসড়ক অবরোধ করে তারা। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেয় তারা।
বিক্ষুব্ধ একাধিক ছাত্রী জানান, এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ ঘটনা আমাদের নিরাপত্তার শঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। দোষী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও দাবি জানান তারা।
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রাশেদ বলেন, ‘আমরা বাবা-মা-পরিবার ছেড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসেছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের আবাসনের ব্যবস্থা করতে পারেনি বলে আমাদের শহরের বিভিন্ন বেসরকারি ছাত্রাবাসে থাকতে হয়। বিভিন্ন সময় স্থানীয় বখাটেদের দ্বারা ছিনতাই ও মারধরের শিকার হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের নিরাপত্তায় কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। এখন আমাদের নারী সহপাঠীদের শ্লীলতাহানির চেষ্টা হচ্ছে।’
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘এ ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে যাই। জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, প্রক্টরিয়াল বডি এবং এলাকাবাসীর সহযোগিতায় দোষীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ ও মামলা করা হয়েছে।’ তবে এ ঘটনায় প্রক্টরিয়াল বডির আরও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ছিল বলেও মনে করেন তিনি।
