সুযোগ পেলে আলোর পথে নিয়ে আসব নির্যাতিতদের

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০১৯, ০৩:২৩ এএম

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হওয়া আলোচিত নারী সিরাজগঞ্জের পূর্ণিমা শীল। ২০০১ সালে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে গণধর্ষণের শিকার হন তিনি। তখন নবম শ্রেণিতে পড়–য়া পূর্ণিমা এখন প্রাপ্তবয়স্ক নারী। গত বছরের শুরুতে সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। পূর্ণিমা ফের আলোচনায় এসেছেন জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম তুলে। নিজ জন্মস্থান সিরাজগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী এলাকা নিয়ে গঠিত ৩০৬ নম্বর সংসদীয় সংরক্ষিত আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম কিনেছেন পূর্ণিমা শীল। দেশ রূপান্তরকে জানালেন,সংরক্ষিত আসনের সদস্য হয়ে তিনি নির্যাতিত নারী ও শিশুদের কথা সংসদে তুলে ধরতে চান। তাদের পাশে দাঁড়াতে চান। তাদের জন্য তহবিল গঠন করতে চান। পূর্ণিমা বলেন, ‘আমার একটাই আশা-আকাক্সক্ষা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি সুযোগ দেন, যারা অন্ধকারে আছে, তাদের হাত ধরে আলোর পথে নিয়ে এসে সামনে রেখে হাঁটব।’

দশম সংসদের মন্ত্রিসভা বিলুপ্তির সঙ্গে সঙ্গে চাকরি হারান পূর্ণিমা। নিজের নিরাপত্তাহীনতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আগে মানুষ চিনত না, জানত না, নিরাপত্তার ঝামেলা ছিল না খুব একটা। কিন্তু তারানা আপার কাছে যখন নিয়োগ হয়, তখন সারা দেশে ফ্লাশ হয়ে যায় আমি সেই মেয়েটা। এত দিন নিরাপত্তার মধ্যে চলাচল করলেও চাকরি চলে যাওয়ার পর আবার নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ি।’

পূর্ণিমা আরও বলেন, ‘৩০ ডিসেম্বরের পর আমার চাকরিটা চলে গেল। তখন থেকেই মনটা ছটফট করছিল। নতুন মন্ত্রিসভা হয়ে গেল আমার ম্যাডাম (তারানা হালিম) থাকলেন না। ভাবছিলাম, আমি এখন কী করব? পরে চিন্তা করলাম, আমি একটা মনোনয়ন ফরম কিনে নিই। মামণির (শেখ হাসিনা) চোখে পড়লেও পড়তে পারে। আমার তো এমপিও নাই, মন্ত্রীও নাই, টাকাও নাই। কিন্তু দেখলাম জনগণ আমার পক্ষে আছে।’

নিজেকে নির্যাতিত নারীদের ‘আইডল’ উল্লেখ করে সংসদে তাদের কথা তুলে ধরতে আগ্রহী পূর্ণিমা শীল বলেন, ‘তিন বছরের শিশু থেকে ৮০ বছরের বৃদ্ধা পর্যন্ত নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাদের আমি দেখেছি ১৮ বছর ধরে। তাদের জন্য কোনো ফান্ড নেই। নিরাপদ জায়গা নেই। অস্থায়ী ক্যাম্পে তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা দেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে তাদের জীবন কীভাবে চলে, সেই খবর কেউ রাখে না। সমাজ তাদের কীভাবে দেখে সে ক্ষেত্রে তো আমি একজন আইডল, আমি সেটা দেখেছি। সেই বিষয়টাই আমি সংসদে তুলে ধরতে চাই।’

রাজনৈতিক পরিচয় হিসেবে নিজেকে আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য দাবি করে পূর্ণিমা বলেন, ‘আমার পরিবার যেহেতু আওয়ামী লীগ সমর্থক, সেহেতু আমার বাবার কাছ থেকে জেনেছি আওয়ামী লীগ ভালো। আমিও সেই ভালোটা মনে করে দলের পক্ষে নিজ ইচ্ছায় ২০১৮ সালের ১৯ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত ৬১টি সমাবেশে অংশগ্রহণ করেছি এবং ২২টি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ব্যানারে গিয়ে সমাবেশ ও আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেছি। স্বাধীনতাবিরোধীদের ভোট না দিতে বলেছি।’

‘মাইনরিটিজ অ্যাকটিভিস্ট ফোরাম’ নামে একটি অনলাইন সংগঠন ও মাহবুব-উল আলম হানিফের একান্ত সচিব (পিএস) রাজু মনোনয়ন ফরম কেনার টাকা দিয়েছেন জানিয়ে পূর্ণিমা বলেন, ‘টাকা থাকলে নিজের টাকা দিয়েই মনোনয়ন কিনতাম।’

নির্বাচিত হলে শুধু হিন্দু সম্প্রদায় নয়, সব সম্প্রদায়ের জন্যই সংসদে কথা বলবেন জানিয়ে পূর্ণিমা বলেন, ‘নিপীড়িত-নির্যাতিত যে হয়, সে-ই বোঝে কষ্টটা কোথায়! হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান যে-ই হোক, যে পরিবার রেপের শিকার হয়েছে, নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তাদের পাশে দাঁড়াব না তা তো হতে পারে না।’

পূর্ণিমা আরও বলেন, ‘একজন ভিকটিমের শুধু কান্নার ছবিটাই দেখানো হয়। কিন্তু যখন মানুষটা বেঁচে থাকতে চায়, সুস্থ থাকতে চায়, তখন আবার তাকে প্রাকৃতিকভাবে ধর্ষণ করা হয়। সমাজ কীভাবে এটা করে? আমি তো এটা চাই না, ভিকটিম কেন শুধু কান্না করবে? ভিকটিমের কি কখনো হাসতে ইচ্ছে হয় না? নির্যাতিতদের এই বিষয়গুলো নিয়ে আমি কথা বলতে চাই। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) সুযোগ দিলেও আমি এসব নিয়ে কথা বলব, না দিলেও কথা বলব।’

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ভোটের রাতে গণধর্ষণের শিকার নারীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন জানিয়ে পূর্ণিমা বলেন, ‘যারা আওয়ামী লীগ করেন তাদের দ্বারা এই কাজ সম্ভব নয়! কারণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটা শিক্ষা অন্তত দেন যে, উচ্ছৃঙ্খল ও উচ্চশব্দে কথা বললে সে আওয়ামী লীগের কর্মী হতে পারবে না। তারা কত দিন ধরে আওয়ামী লীগ করে, এটা জানার জন্য আমি সেখানে যাব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত