মিরসরাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরের ‘গার্মেন্টপল্লী’ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের মধ্যে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্রেতা জোট ‘অ্যাকর্ড’ ও উত্তর আমেরিকার ক্রেতা জোট ‘অ্যালায়েন্স’-এর বেঁধে দেওয়া শর্ত পালন করতে গিয়ে যেসব পোশাক কারখানা স্থানান্তর করতে হচ্ছে, তাদের বেশির ভাগই আগ্রহী হয়ে উঠছে মিরসরাইয়ের গার্মেন্টপল্লীর দিকে। নির্ধারিত বুকিং মানিসহ এরই মধ্যে ৪৩১ প্লটের জন্য আবেদন জমা পড়েছে। আরও অনেক প্রতিষ্ঠান আবেদন করতে যাচ্ছে।
পোশাক খাতের মালিকরা বলছেন, অ্যাকর্ড, অ্যালায়েন্স, আইএলওর শর্ত পালন করতে না পেরে ঢাকা ও চট্টগ্রামে বন্ধ হয়ে গেছে দুই হাজারের কাছাকাছি পোশাক কারখানা। এই পোশাক কারখানার অনেকগুলো মিরসরাই এসইজেডে (স্পেশাল ইকোনমিক জোন) নিতে যেতে চান তারা। এর মাধ্যমে ঢাকা-চট্টগ্রামে বন্ধ হয়ে যাওয়া অনেকগুলো কারখানা জীবন ফিরে পাবে।
বিজিএমইএর কর্মকর্তারা বলেন, মিরসরাই গার্মেন্টপল্লীতে কারখানা স্থাপনের জন্য এ পর্যন্ত ঢাকা ও চট্টগ্রামের ৬৮ প্রতিষ্ঠান ৪৩১ প্লটের জন্য ২৬ শতাংশ বুকিং মানি জমা দিয়েছে। এর মধ্যে ঢাকার ৪৪ প্রতিষ্ঠান ৩২৪টি প্লট এবং চট্টগ্রামের ২৪ প্রতিষ্ঠান ১০৭টি প্লট বুকিং দিয়েছে। প্রতিটি প্লটের পরিমাণ এক একর। বুকিং মানি হিসেবে এসব প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রায় ৮৭ কোটি টাকা জমা করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের যেসব প্রতিষ্ঠান গার্মেন্টপল্লীতে কারখানা স্থাপনের জন্য নির্ধারিত বুকিং মানি জমা করেছে, তার মধ্যে রয়েছে কি-গার্মেন্ট, মেলো ফ্যাশন, মার্স সফটওয়্যার, মেনস্ ফ্যাশন, প্রগ্রেসিব অ্যাপারেলস ইন্ডাস্ট্রিজ, গার্মেন্ট হোম (প্রা.), ভ্যানকট, ইমেজ গার্মেন্ট, চার্ম ফ্যাশন, ফোর এইচ ফ্যাশন, তাফফ অ্যাপারেলস, ভিজুয়াল নিটওয়্যার্স, এআরএল অ্যাপারেলস, এআরএল ড্রেসেস, বিএলপি ওয়ার্ম ফ্যাশন, ওয়েল ফ্যাশন, ক্লিফটন অ্যাপারেলস, ক্লিফটন কটন মিলস, আফরাহ ড্রেসেস, ইউরেনাস অ্যাপারেলস, আল ইত্তেফাক টেক্সটাইলস, আরডিএম অ্যাপারেলস ও আদিলা অ্যাপারেলস।
রানা প্লাজা ধসের পর থেকে অ্যাকর্ড, অ্যালায়েন্স ও আইএলওর আরোপিত শর্তসহ অন্যান্য কারণে সারা দেশে ৪ হাজার ৪৫৫টি পোশাক কারখানার মধ্যে গত বছর অক্টোবর পর্যন্ত ১ হাজার ৭৯৫টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে বন্ধ কারখানার সংখ্যা ৩২৪টি। এসব কারখানার বড় একটি অংশ মিরসরাই এসইজেডের গার্মেন্টপল্লীতে স্থানান্তর হচ্ছে।
তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহসভাপতি (অর্থ) ও এভারগ্রিন সোয়েটার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাসির দেশ রূপান্তরকে বলেন, মিরসরাই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের ‘বিশেষায়িত গার্মেন্টপল্লী’ স্থাপনের সিদ্ধান্ত দেশের তৈরি পোশাকশিল্প খাতের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের কমপ্লায়েন্সের আওতায় বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো নতুন করে স্থাপনের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ।
তিনি বলেন, এই সুযোগটিকে আমরা কাজে লাগাতে চাই। বিশেষ করে চট্টগ্রাম থেকে তৈরি পোশাক রপ্তানি শুরু হলেও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এ খাতে চট্টগ্রাম অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের গার্মেন্টপল্লীতে নতুন কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার একটি সুযোগ এসেছে। এটাকে কাজে লাগাতে হবে।
স্পেশাল ইকোনমিক জোনে তৈরি পোশাক কারখানা উৎপাদন শুরু করতে গেলে দক্ষ শ্রমিকের সংকট হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক ও বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক অঞ্জন শেখর দাশ।
দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, গার্মেন্ট হচ্ছে শ্রমঘন শিল্প। চট্টগ্রাম ইপিজেডসহ বিভিন্ন গার্মেন্ট কারখানায় যেসব শ্রমিক কাজ করেন, তারা নগরী ও নগরীর পাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকেও প্রচুর শ্রমিক এখানে আসছে। কিন্তু মিরসরাই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে গার্মেন্ট কারখানাগুলো পুরোদমে চালু করতে গেলে যে পরিমাণ শ্রমিকের প্রয়োজন, তা সেখানে পাওয়া মুশকিল হয়ে যাবে।
