চাঁদের এই লাল হয়ে যাওয়ার কারণ মূলত চন্দ্রগ্রহণ, একটি পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। সূর্যগ্রহণের সময় যেমন চাঁদ সূর্যের পুরোটা কিংবা খানিকটা ঢেকে দেয়। চন্দ্রগ্রহণের ব্যাপারটা কিন্তু সে রকম নয়। চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবী অবস্থান করে সূর্য আর চাঁদের মাঝামাঝি। সূর্য থেকে নির্গত আলো পৃথিবীর ছায়া ফেলে চাঁদের গায়ে। এটাকেই আমরা চন্দ্রগ্রহণ বলি।
চন্দ্রগ্রহণের সময় সূর্যের আলো পৃথিবীপৃষ্ঠে পড়ে বিপরীত দিকে পৃথিবীর যে ছায়া ফেলে সেটা দুই ধরনের। মাঝখানের অপেক্ষাকৃত ঘন অন্ধকারকে বলা হয় ‘প্রচ্ছায়া’ (umbra) আর অপেক্ষাকৃত কম ঘন অন্ধকারকে বলা হয় ‘উপচ্ছায়া’ (penumbra)।
সূর্যের আলো বায়ুম-লের মধ্য দিয়ে প্রতিসরিত হতে হতে পৃথিবীর যে দিকে চাঁদ অবস্থান করছে সে দিকের বায়ুম-লে চলে আসে। বায়ুম-লে প্রতিসরণের সময় স্বল্প তরঙ্গদৈর্ঘ্যরে রংগুলো বিক্ষিপ্ত হয়ে যায়। লাল রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্য অন্যান্য রঙের তুলনায় বেশি বলে খুব একটা বিক্ষিপ্ত না হয়েই লাল রং পৃথিবীর অপর দিকের বায়ুম-লে চলে আসে এবং এরপর চাঁদের বুকে প্রতিফলিত হয়। আর এ কারণেই আমরা লাল রঙের চাঁদ দেখতে পাই।
