ভূতের গল্পের সঙ্গে বাঙালির নাড়ির যোগ। তা সে শরদিন্দুর লেখাই হোক বা সত্যজিৎ রায়। লীলা মজুমদার থেকে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। নামগুলো পর পর করলাম, কারণ ‘স্ত্রী’ ছবিটি দেখতে দেখতে মাঝে মাঝেই বাঙালির মনে পড়বে ছোটবেলার এসব গল্পগাছা। শিউরে উঠতে পারেন। আবার হেসে উঠতেও পারেন। প্রেমে পড়েও যেতে পারেন। এমনই ককটেল এ ছবি। এক কথায়, প্রাক-পুজো দিলখুশ উপহার।
নিপাট ভূতের গল্পের ছবি নয় ‘স্ত্রী’। হরর-কমেডি গোত্র। রাজকুমার রাও নামটা সে চমকের একটা অংশ। বাকি চমক তো ছবি জুড়ে।
ভারতের মধ্যপ্রদেশের চান্দেরি গ্রামে এ গল্পের পটভূমি, তা অদ্ভুতভাবে মানিয়ে যায় গল্পের সঙ্গে। রাজকুমার অভিনীত ভিকি চান্দেরি গ্রামের বাসিন্দা। কথিত আছে, এ গ্রামেই ঘুরে বেড়ায় এক মহিলা ভূত। পুরুষের থেকে সম্মান না পাওয়া সেই ভূত চায় ভালোবাসা। তবে এ ভূত পড়াশোনা জানা। কিন্তু পুরুষের ওপর যখন আক্রমণ চালায় সে, তা হয়ে ওঠে বিপজ্জনক। পেছন থেকে হঠাৎ আক্রমণ তার। সঙ্গে সঙ্গে ধরাশায়ী পুরুষ। তার ভয়ে শিউরে ওঠে প্রতিটি গ্রামবাসী। বাড়ির বাইরে লিখে রাখে, ‘আজ নয়, কাল আসো’। এই গ্রামেই কাপড়জামা সেলাই করে দিন চলে ভিকি নামের যুবকের। বাবার দর্জির দোকানে কাজ করে সে। শ্রদ্ধা কাপুর অভিনীত নামহীন মেয়েটি তাকে সন্ধ্যায় মন্দিরে আসতে বলে। চিঠি দেয়। বলে পুজোর জন্য পোশাক বানিয়ে দিতে। আলাদা দেখাও করে। কিন্তু কোথাও নাম, ফোন নম্বর দেয় না। বন্ধুরা তাকে সতর্ক করে। বলে, হাওয়া ভালো না। কিন্তু প্রেমের ঘোরে ভিকির চোখ ঝাপসা। শ্রদ্ধা অভিনীত মেয়েটিই কি ভূত? না অন্য কেউ? নেপথ্যে গোটা গ্রামকে নাকানি চুবানি খাওয়াচ্ছে?
জানতে হলে দেখতে হবে গোটা ছবি। ছবি জুড়ে রাজকুমারের অভিনয়ের ঝিলিক। শ্রদ্ধাও কিছু কম যান না। তবে এ ছবির আলো, ক্যামেরা আর সম্পাদনা সত্যি ভালো লাগে। কী যে সুন্দর দেখতে লাগে গ্রামটিকে। এমন লোকেশনে এমন ভূতের মজার গল্প ফাঁদার জন্যই এ ছবি আবার দেখা যায়। তবে, এমন স্মার্ট ছবির আবহ নিয়ে কি আর একটু ভাবা যেত না! খুবই ক্লিশে লাগে মিউজিক।
এমন একটা সচেতনতা নিয়ে এ ছবি যা আজকের ভারত। যেখানে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য আর নারীর অবমাননা বারবার প্রশ্নের মুখে। আমরা রূপকথায় এমনই গভীর কথা সহজ মজায় শুনে থাকি। এ ছবিও কোথাও জ্যাঠামো করতে চায় না। বারবার হাসায়। আর প্রতি হাসির ভাঁজে ভাসতে থাকে মেয়েদের আবহমান জীবনের কান্না, ‘দাদা আমি বাঁচতে চাই!’
