মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় অপহরণের তিন দিন পর সাত বছরের এক শিশুর খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করেছে র্যাব। গতকাল রবিবার সকালে জালশুকা গ্রামের একটি লেবুক্ষেত থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। শিশুটির নাম জুবায়ের হোসেন। সে ওই গ্রামের সামছুল হকের ছেলে ও প্রথম শ্রেণির ছাত্র ছিল। গত বৃহস্পতিবার স্কুল থেকে ফেরার পর নিখোঁজ হয় শিশুটি। পরদিন শুক্রবার সকালে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। অপহরণকারীরা শিশুটিকে হত্যার পর চার-পাঁচ টুকরো করে ফেলে রেখে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
এ ঘটনায় সন্দেহভাজন দুই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে র্যাব। তারা হলো জালশুকা গ্রামের মহিদুল ইসলাম (২০) ও উজ্জ্বল ।
শিশুর বাবা সামছুল হক বলেন, ‘জুবায়ের বৃহস্পতিবার দুপুরে স্কুল থেকে ফেরার পর বাড়ির পাশে খেলছিল। এ সময় কে বা কারা আমার ছেলেকে অপহরণ করে। পরে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এক নারী মোবাইল ফোনে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ১২ ঘণ্টার মধ্যে তিন লাখ টাকা নিয়ে সাভার ওভারব্রিজের নিচে আসতে বলে। না এলে জুবায়েরকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। ছেলেকে বাঁচাতে টাকা নিয়ে সেখানে গেলেও অপহরণকারীরা আসেনি। পরে সাটুরিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি।’
সাটুরিয়া থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, গতকাল সকালে নবীনগর র্যাব-৪ (উপ-অধিনায়ক) মেজর আবদুল হাকিমের নেতৃত্বে একটি টিম অভিযানে নামে। এরপর সন্দেহ হলে দুজনকে আটকের পর জালশুকা গ্রামের একটি লেবুর ক্ষেত থেকে শিশু জুবায়েরের খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে র্যাব। পরে দুপুর ১টার দিকে খণ্ডিত দেহ ময়নাতদন্ত করার জন্য থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।
সাটুরিয়া থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই সাইফুল ইসলাম বলেন, জুবায়েরের দেহ চার-পাঁচ খণ্ডে খণ্ডিত ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, অপহরণকারীরা হত্যা করে লেবুক্ষেতে রেখে যায়। লাশ ময়নাতন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। র্যাব আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত (গতকাল বিকেল) কোনো আসামি হস্তান্তর করেনি।
