মঞ্চ তৈরি করে দিয়েছিলেন বোলাররা। আগে ব্যাট করা ঢাকা ডায়নামাইটসকে গড়তে দেয়নি বড় পুঁজি। কিন্তু ঢাকার বোলারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ের মুখে ছোট্ট লক্ষ্যটাই কঠিন হয়ে পড়ে চিটাগং ভাইকিংসের জন্য। শেষ দিকে চরম উত্তেজনার ম্যাচটি অবশ্য জিতে নিয়েছে চিটাগং। শেষ ওভারে ১৬ রানের সমীকরণ মিলিয়ে চিটাগংকে জয় উপহার দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটার রবি ফ্রাইলিঙ্ক।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) সোমবার দিনের দ্বিতীয় ম্যাচটিতে ঢাকাকে ৩ উইকেটে হারায় চিটাগং। আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ১৩৯ রানের বেশি করতে পারেনি সাকিব আল হাসানের ঢাকা। জবাবে এক বল বাকি থাকতে জয় এসেছে চিটাগংয়ের।
এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলে ঢাকাকে ছুঁয়ে ফেলেছে চিটাগং। ৬ ম্যাচে ৫ জয়ে ১০ পয়েন্ট মুশফিকের চিটাগংয়ের। এক ম্যাচ বেশি খেলে সমান জয় ও পয়েন্ট ঢাকার।
১৪০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই মোহাম্মদ শাহজাদ (০) ফেরেন। তবে আরেক ওপেনার ক্যামেরুন ডেলপোর্ট ঝড় তুললেন। তবে ১২ বলে ৩০ রান করা ডেলপোর্টকে ফিরিয়ে সেই ঝড় থামান সাকিব আল হাসান।
এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়েছে চিটাগং। আগের ম্যাচে ফিফটি করা ইয়াসির ফিরেছেন ১৫ রানে। সাকিব আল হাসানের দ্বিতীয় শিকার হন তিনি। থিতু হয়েও ফিরেছেন মুশফিকুর রহিম, মোসাদ্দেক হোসেন। ২২ রান করে মুশফিক রুবেল হোসেনের শিকার হন। তার আগে ২ রান করা শানাকে ফেরান সাকিব। অন্যদিকে ৩৩ রান করে রান আউটে কাটা পড়েন মোসাদ্দেক। তার আগে সাকিব নিজের চতুর্থ শিকার বানান নাঈম হাসানকে।
শেষ দুই ওভারে ২১ রানের সমীকরণ দাঁড়ায় চিটাগংয়ের সামনে। রুবেলের তৃতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলেই ফিরে যান মোসাদ্দেক। ওই ওভারে মাত্র ৫ রান নিতে পারে চিটাগং। শেষ ওভারে তাই দলটির জয়ের সমীকরণ দাঁড়ায় ১৬ রানের।
মোহর শেখের করা ওভারের প্রথম বলে সিঙ্গেল নিয়ে ফ্রাইলিঙ্ককে স্ট্রাইক দেন সানজামুল। ফ্রাইলিঙ্ক মোহরের মুখোমুখি প্রথম (২০তম ওভারের দ্বিতীয় বল) বলেই হাঁকান ছক্কা। তৃতীয় বলে দুই রান নেওয়ার পর চতুর্থ বলে হাঁকান আরেক ছক্কা। পঞ্চম বলে ছক্কা মেরে দলকে এনে জয়।
সাকিব আল হাসান দুর্দান্ত বোলিং করেও পরাজিত দলে থেকে যান। ৪ উইকেট শিকার করেন ঢাকার অধিনায়ক। ১টি করে উইকেট নিয়েছেন আন্দ্রে রাসেল ও রুবেল হোসেন।
এর আগে চিটাগংয়ের পেসারদের দারুণ বোলিংয়ের মুখে বড় পুঁজি গড়তে পারেনি ঢাকা। ডেলপোর্ট সর্বাধিক ৩ উইকেট নিয়েছেন। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন ফ্রাইলিঙ্ক ও জায়েদ। খালেদ নিয়েছেন ১ উইকেট।
নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো ঢাকাকে টেনেছেন সাকিব আল হাসান। চার নম্বরে নেমে খেলেছেন ৩৪ রানের ইনিংস। এ ছাড়া নুরুল হাসান করেন ২৭ রান। তবে শেষ পর্যন্ত ঢাকার ১৩৯ রানের পুঁজি গড়তে বড় ভূমিকা রেখেছেন শুভাগত হোম। আট নম্বরে নেমে ১৫ বলে ২৮ রান করেন তিনি।
