স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার সংযুক্ত একটি বাটাগুর বাস্কা (বিরল প্রজাতির কচ্ছপ) জেলের জালে আটকে পড়ার তা বিক্রির সময় উদ্ধার করা হয়েছে।
মোংলার মিঠাখালী এলাকার পুঁটিমারী খালে এক জেলের জালে আটকে পড়া কচ্ছপটি সোমবার দুপুরে শহরের প্রধান মাছ বাজারে বিক্রির জন্য নেয়া হলে ‘বাটাগুর বাস্কা প্রজেক্ট’র স্টেশন ম্যানেজার আ. রব ও বনবিভাগের সদস্যরা একে উদ্ধার করে।
আ. রব জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া ৪০ বছর বয়সের এ বাটাগুর বাস্কার ওজন সাড়ে ১২ কেজি। এর শরীরে কিছু আঘাত রয়েছে। প্রাথমিক শ্রুশুষার জন্য একে করমজল প্রজেক্টের বণ্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হবে। এরপর সাগরে ছেড়ে দেওয়া হবে।
বনবিভাগের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন ও পর্যটন কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. আজাদ কবির ও আ. রব জানান, মিঠাখালীর পুঁটিমারী খালে সোমবার সকালে বোবা এক জেলে মাছ ধরছিল। এ সময় ওই জেলের জালে বেশ বড় আকৃতির কচ্ছপটি ধরা পড়ে। ওই জেলে কচ্ছপটিকে মেরে ফেলার চেষ্টাকালে অপর জেলে বোরহান তার কাছ থেকে ছাড়িয়ে নেয়।
তারা জানান, পরে বোরহান দুপুরে মিঠাখালী বাজারের মাছ ব্যবসায়ী আবুল হোসেনের কাছে ১ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়। দুপুরে আবুল হোসেন কচ্ছপটি নিয়ে মোংলা পৌর শহরের প্রধান মাছ বাজারে বিক্রি করতে আসেন। কচ্ছপটির পিঠের ওপর স্যাটেলাইট জিপিএস ট্র্যাকিং ট্রান্সমিটার বসানো দেখে সেটি কেউ না কিনে বনবিভাগকে খবর দেয়।
খবর পেয়ে বনবিভাগের সদস্য ও আ. রব ১ হাজার টাকায় কচ্ছপটি ছাড়িয়ে নিয়ে যান বলে জানান।
আ. রব বলেছেন, ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর এ কচ্ছপটি বঙ্গোপসাগরের মোহনার কালিরচরের সুন্দরবনের ৪৩ নম্বর এলাকায় ছাড়া হয়েছিল। স্যাটেলাইট জিপিএস ট্র্যাকিং ট্রান্সমিটার সিস্টেম সংযোজিত এ বাটাগুর বাস্কা ছাড়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল এর বিচরণক্ষেত্র, স্বভাব, পানির ওপরে রোদ পোহানো ও পানির নিচের অবস্থান নির্ণয়সহ প্রজননক্ষেত্র সম্পর্কে গবেষণার তথ্য সংগ্রহ।
এ পর্যন্ত দুই দফায় এমন ৫টি কচ্ছপ সাগর-সুন্দরবনে ছাড়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
আ. রব বলেছেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে অস্ট্রিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান, যুক্তরাষ্ট্রও বাংলাদেশ বনবিভাগ। পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজলে এ প্রজেক্টের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।
তিনি আরো বলেন, এ প্রজেক্টের মূল উদ্দেশ্য হলো বিরল প্রজাতির বাটাগুর বাস্কা কচ্ছপের প্রজনন বৃদ্ধির মাধ্যমে এর বংশ বিস্তার।
