কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের ব্যাটসম্যানরা স্কোর বোর্ডে জমা করেছিলেন চ্যালেঞ্জিং পুঁজি। যদিও শক্তিশালী ঢাকা ডায়নামাইটসের জন্য সেই পুঁজি কঠিন কিছু ছিল না। কিন্তু ব্যাটিংয়ের পর বোলিংয়ে যেমন শুরু প্রয়োজন ছিল কুমিল্লার, তেমনটাই করলেন দলটির বোলাররা। আন্দ্রে রাসেল ও সাকিব আল হাসানে এরপর ঢাকার ঘুরে দাঁড়ানো। কিন্তু থিসারা পেরেরা এদিন বল হাতে ত্রাতা হলেন কুমিল্লার। ৩ ওভারে মাত্র ১৪ রানে ৩ উইকেট নিয়ে দলকে উপহার দিলেন মধুর এক জয়।
মঙ্গলবার বিপিএলে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে সাকিব আল হাসানে ঢাকাকে ৭ রানে হারিয়েছে কুমিল্লা। আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১৫৩ রান করে কুমিল্লা। জবাবে ৯ উইকেটে ১৪৬ রানে থামে ঢাকার ইনিংস।
১৫৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ৩০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ঢাকা। হজরতউল্লাহ জাজাই ১, রনি তালুকদার ৬ ও সুনিল নারিন ২০ রান করে ফেরেন। দরবিশ রসুলি ব্যক্তিগত ১৯ রান করে ফিরলে ৫০ রানে ৪ উইকেট হারায় ঢাকা।
তবে এরপর আন্দ্রে রাসেলকে সঙ্গে নিয়ে চাপ সামাল দেন সাকিব আল হাসান। দুজনে যোগ করেন ৬২ রান। রাসেল ২৪ বলে ৫ ছক্কা ও ২ চারে ৪৬ রানের ইনিংস খেলে ফিরতেই রং বদলায় ম্যাচের।
১৫তম ওভারে রাসেলকে ফেরান থিসারা পেরেরা। রাসেল ফেরার ৬ রানের ব্যবধানে বিদায় নেন সাকিব ও শুভাগত হোম। নুরুল হাসান সোহানও যোগ দেন সেই মিছিলে।
১৬তম ওভারের শেষ বলে সাকিবকে ফেরান শহীদ আফ্রিদি। ১৯ বলে ১ চারে ২০ রান করেন সাকিব। থিসারা পেরেরার করা ১৭তম ওভারের দ্বিতীয় বলে শুভাগত মাত্র ৩ রান করে কাটা পড়েন। এরপর ৪ রান করা নুরুল হাসান সোহানকেও ফিরিয়ে দেন পেরেরা। ফলে ১৬.৪ ওভারে ১২২ রানে ৮ উইকেটে হারিয়ে ফেলে ঢাকা।
সেখান থেকে ঢাকার জয় ছিল কষ্টসাধ্য ব্যাপার। বিশেষ করে রুবেল হোসেন ও নাঈম শেখের মতো টেল এন্ডাররা যখন ব্যাটিংয়ে। এর মধ্যে ১৯তম ওভার করতে এসে পেরেরা দিলেন মাত্র ১ রান। তাতে শেষ ওভারে ১৯ রানের সমীকরণ দাঁড়াল ঢাকার সামনে। সাইফউদ্দিনের ওভারটিতে রুবেলের উইকেট হারিয়ে ঢাকা নিতে পারল ১১ রান। ফলে ৭ রানে জয় নিশ্চিত হয় কুমিল্লার।
এর আগে আগে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই দলীয় ১৭ রানে বিদায় নেন ওপেনার এনামুল হক বিজয়। মাত্র ১ রান করে তিনি ফেরেন আন্দ্রে রাসেলের শিকার হয়ে। তামিম ভালোই খেলছিলেন। কিন্তু ইমরুল কায়েস তিন নম্বরে নেমে মাত্র ৭ রান করে বিদায় নেন। ফলে ২৭ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় কুমিল্লা।
এরপর শামসুর রহমান শুভকে নিয়ে জুটি বাঁধেন তামিম। ৫১ রান যোগ করে এই জুটি। তামিম ২৯ বলে দুই ছক্কা ও এক চারে ৩৪ রান করে ফেরেন। সাকিব আল হাসানের বলে রনি তালুকদারের হাতে ক্যাচ হন তিনি।
থিতু হয়েও ১৬ রান করে ফিরেছেন শহীদ আফ্রিদি। একই ওভারে বিদায় নেন শামসুরও। ১৫তম ওভারে দুজনের উইকেটই নেন সাকিব। শামসুর ৩৫ বলে ৪৮ রান করেছেন ৩ চার ও এক ছক্কায়।
থিসারা পেরেরা আশা দেখাচ্ছিলেন। কিন্তু রান আউটে কাটা পড়েন তিনি। ১২ বলে তিন ছক্কায় ২৬ রান করেন এই লঙ্কান। এরপর কুমিল্লার রানটা প্রত্যাশা অনুযায়ী এগোয়নি। লিয়াম ডসন ৬ ও জিয়াউর রহমান ৫ রান করেন।
সাকিব সর্বাধিক ৩ উইকেট নিয়েছেন। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন আন্দ্রে রাসেল ও রুবেল হোসেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স: ২০ ওভারে ১৫৩/৮ (তামিম ৩৪, শামসুর ৪৮, পেরেরা ২৬; সাকিব ৩/২৪, রুবেল ২/২৬, রাসেল ২/২৭)।
ঢাকা ডায়নামাইটস: ২০ ওভারে ১৪৬/৯ (নরিন ২০, সাকিব ২০, রাসেল ৪৬; পেরেরা ৩/১৪)।
ফল: কুমিল্লা ৭ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: থিসারা পেরেরা।
