আবাহনীকে উড়িয়ে দিল বসুন্ধরা

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ০১:০৩ এএম

অস্কার ব্রুজন আগের দিন বলেছিলেন আবাহনীর রাজত্বে ভাগ বসাতে চান তিনি। নীলফামারীতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে মর্যাদার ম্যাচে এই স্প্যানিশ কোচের বসুন্ধরা কিংস বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনীর রাজত্বে শুধু ভাগই বসায়নি, সিংহাসন রীতিমতো টলিয়ে দিয়েছে। গতকাল নীলফামারীর শেখ কামাল স্টেডিয়ামের অভিষেকটা রাঙিয়ে দিতে বসুন্ধরা ম্যাচটা জিতেছে ৩-০ গোলের ব্যবধানে। নাসিরউদ্দিন চৌধুরী, মতিন মিয়া ও কোস্টারিকান আন্দ্রেস কলিনদ্রেস একটি করে গোল করেন। গোপালগঞ্জে দিনের অন্য ম্যাচে আইভরি কোস্টের স্ট্রাইকার বেলো ফামুসার হ্যাটট্রিকে স্বাগতিক মুক্তিযোদ্ধা ৩-০ গোলের লজ্জায় ডুবিয়েছে গতবারের রানার্সআপ শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবকে।

লিগের দ্বিতীয় রাউন্ড শুরুর দিনটি দেখল গত আসরের দুই সেরার দুর্দশা। মাঝারিমানের দল গড়ায় জামালের বড় হার না হয় মানা গেল, কিন্তু বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনীর এমন অসহায় রূপ বিস্মিত করেছে মাঠের দর্শকদের। ব্যবধানটা আরও বড় করে জিততে পারত বসুন্ধরা। সেটা হয়নি আবাহনীর কিপার শহীদুল আলম সোহেলের কিছু ভালো সেভের কারণে। স্থানীয় দর্শকদের সমর্থন পেয়ে শুরু থেকেই উজ্জীবিত ছিল কিংস। তার ওপর সুপারসাব হিসেবে আগের ম্যাচগুলো খেলা মতিন মিয়াকে শুরু থেকেই মাঠে নামিয়ে ব্রুজন বুঝিয়ে দিয়েছিলেন আজ তারা খেলবেন আক্রমণাত্মক মেজাজে। হয়েছে সেটাই, তবে বসুন্ধরার আগ্রাসীভাবে জ্বালানি দিয়েছে আবাহনীর আক্রমণভাগের প্রাণভোমরা নাইজেরিয়ান সানডে চিজোবার পেনাল্টি মিস। রায়হান হাসানের লম্বা

থ্রোইন নাসিরউদ্দিন চৌধুরীর হাতে লাগলে ৪২ মিনিটে পেনাল্টি পায় আবাহনী। কিন্তু এগিয়ে যাওয়ার সুযোগটা সানডে নষ্ট করেছেন পোস্টের বাইরে মেরে। তার আগে অবশ্য রুবেল মিয়ার শট ক্রসবারে লেগেছে ১২ মিনিটে। ২ মিনিট পর মতিনের কাছ থেকে সেন্টার পেয়ে আলমগীর কবির রানার ভলি সোহেল রুখেছেন ঝাঁপিয়ে পড়ে। ৩৩ মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত বসুন্ধরা। বিশ্বকাপ তারকা কলিনদ্রেস অসাধারণ বডিডজে ছিটকে ফেলেন রায়হানকে। তারপর ডান পায়ের দুর্দান্ত শট নেন যা ক্রসবারে বাধাপ্রাপ্ত হয়।

পরের মিনিটে আবাহনীর আফগান ডিফেন্ডার মাসিহ সাইঘানি ব্যথা পেয়ে মাঠ ছাড়লে বসুন্ধরার কাজটা সহজ হয়ে যায়। তারপর ৪২ মিনিটে সানডের অমার্জনীয় ভুল আদতে মনঃসংযোগ নষ্ট করে দেয় আকাশি-নীলদের। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে কলিনদ্রেসের আরেকটি ভেলকিতে লিড পায় বসুন্ধরা। তার মাপা ফ্রি-কিকে শেষ মুহূর্তে পা ছুঁইয়ে গোল করেন নাসিরউদ্দিন।

দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়িয়ে আরও দুই গোল তুলে নেয় কিংস। ৬০ মিনিটে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড মার্কোস ভিনিসিয়াসের ব্যাকহিল পেয়ে যান মতিন মিয়া। বাম প্রান্ত দিয়ে ডিফেন্ডার ওয়ালী ফয়সালকে পেছনে ফেলে বক্সে ঢুকে এই তরুণের কোনাকুনি শট ঠিকানা খুঁজে নেয়। ৪ মিনিট বাদে ফ্রি-কিক করাকে কেন্দ্র করে তর্কে জড়িয়ে পড়েন আবাহনীর হাইতিয়ান ফরোয়ার্ড বেলফোর্ট ও কোরিয়ান মিনিয়েক কো। শেষ পর্যন্ত বেলফোর্টের ফ্রি-কিক বারের ওপর দিয়ে গেলে হতাশা বাড়ে দলটির শিবিরে। আর ৬৯ মিনিটে উজবেক ফরোয়ার্ড বখতিয়ারের বানিয়ে দেওয়া বল নিয়ে বক্সের ডানদিকে দিয়ে ঢুকে আগুয়ান সোহেলের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে জড়িয়ে আবাহনীর কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন কলিনদ্রেস।

ম্যাচের আগে আলোচনায় ছিলেন কলিনদ্রেস ও সানডে। দুই দলের দুই সেরা খেলোয়াড়ের দ্বৈরথে এবার জয়টা হলো কলিনদ্রেসের। আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দিয়েছেন বসুন্ধরা অধিনায়ক। আর পেনাল্টি মিস করে বোতলবন্দিই হয়ে রইলেন সানডে। তাতেই মৌসুমের মুখোমুখি লড়াইয়ে বসুন্ধরা এগিয়ে গেল ২-১-এ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত