চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। ব্যাংক খাতে তারল্য সংকটও কাটেনি। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আহরণ না হওয়ায় সরকারের ঋণগ্রহণও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ৩০ জানুয়ারি এ মুদ্রানীতি ঘোষণা হবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে।
২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতিতে (জুলাই ’১৮-ডিসেম্বর ’১৮) বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হয়েছিল ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ। আর সরকারি ঋণের প্রাক্কলন করা হয় ১০ দশমিক ৪ শতাংশ। এছাড়াও বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ৮ শতাংশ ধরা হয়।
পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বরে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ২ শতাংশ, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২১ দশমিক ৪২ শতাংশীয় পয়েন্ট কম। বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির এ হার গত ৩৯ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। ব্যাংকগুলোর অগ্রিম-আমানত অনুপাত (এডি রেশিও) ও সুদহার কমিয়ে আনার পাশাপাশি নির্বাচনকালীন সময়ে বিনিয়োগ স্থবিরতার কারণে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ কমেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বেসরকারি খাত জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ভূমিকা পালন করে থাকে। এ খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে গেলে তাতে জিজিপির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার আশঙ্কা বাড়তে থাকে। তারল্য সংকটের কারণে অর্থবছরের প্রথমার্ধে লক্ষ্য অনুযায়ী বিনিয়োগ করতে পারেনি ব্যাংকগুলো। এ কারণেই দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর কৌশল থাকতে পারে। একই সঙ্গে এ ঋণের জোগান দিতে ব্যাংকিং খাতে তারল্য বাড়ানোর জন্যও বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
আমানতের সুদহার কমে যাওয়ায় ব্যাংকে তারল্য প্রবাহ কমছে। বিপরীতে বেড়েছে খেলাপি ঋণ। এতে কমে যাচ্ছে ব্যাংকের বিনিয়োগ সক্ষমতা। কাক্সিক্ষত হারে রাজস্বও আদায় হচ্ছে না। ফলে ব্যয় মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকারের ঋণ বাড়ছে।
২০১৮ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে সরকারের ঋণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ বেশি। আর নতুন বছরের ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ দাঁড়িয়েছে ৯৩ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা।
প্রসঙ্গত, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কাক্সিক্ষত প্রবৃদ্ধি অর্জনের মধ্যে ভারসাম্য
রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতি ছয় মাসে দু’বার মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও প্রকাশ করে। ছয় মাস অন্তর এই মুদ্রানীতি একটি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে অর্থাৎ জুলাই মাসে এবং অন্যটি জানুয়ারি মাসে প্রণয়ন হয়। দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় মুদ্রানীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে পরবর্তী ছয় মাসে অভ্যন্তরীণ ঋণ, মুদ্রার সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ, বৈদেশিক সম্পদ কী পরিমাণে বাড়বে বা কমবে এর একটি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
