জিএসপি প্লাস পাওয়ার শর্ত পূরণ করতে হবে : ইইউ রাষ্ট্রদূত

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০১৯, ০১:৪৯ এএম

উন্নয়ন দেশে উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা জিএসপি প্লাস পেতে হলে শর্ত পূরণ করার মতো যোগ্যতা বাংলাদেশকে অর্জন করতে হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত এইচ ই রেন্সজি তিরিঙ্ক।

গতকাল সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি একথা বলেন। জিএসপি প্লাস সুবিধা সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে অনেক চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশকে মোকাবিলা করতে হবে। এ জন্য সব খাতকে গতিশীল ও দক্ষ করে তোলা জরুরি। মানসম্মত উৎপাদন বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে জিএসপি সুবিধা হারানোর আগেই জিএসপি প্লাস সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আইএলওর কনভেনশন অনুযায়ী মান ধরে রাখতে হবে। পাশাপাশি ইইউর চাওয়া অনুযায়ী পোশাক খাতে সাসটেইনেবিলিটি কমপ্যাক্টের শর্তগুলো পূরণ করতে হবে। এগুলোর ধারাবাহিকতা ধরে রাখা বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব যৌক্তিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, অবশ্যই পোশাকের দাম বাড়ানোর দাবিটি যৌক্তিক। এ বিষয়ে ক্রেতাদের মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি। ইইউ কমিশনের ২০২০ সালের মিটিংয়ে পোশাকের দাম বাড়ানোর বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানান তিনি। বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ উন্নয়নে আগের  মতোই বাংলাদেশের পাশে থাকবে ইইউ। তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বাড়াতে আগ্রহী। সে জন্য বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন। শুল্কক্ষেত্রে কিছু সমস্যার কথা তারা বলেছেন। আগামী মার্চে ইইউ-বাংলাদেশ যৌথ কমিশনের সভা হবে। সেখানে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। তিনি বলেন, পোশাক খাতে বাংলাদেশ এখন সবচেয়ে নিরাপদ একটি দেশ। অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্স পোশাক খাতে সংস্কারে নির্ধারিত মেয়াদের অতিরিক্ত সময় ধরে বাংলাদেশে কাজ করছে। তাদের অনুপস্থিতিতে এই সংস্কারের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে শক্তিশালী রেমিডিয়েশন কো-অর্ডিনেশন সেল (আরসিসি) গঠন করা হয়েছে। তাই অ্যাকর্ডের অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশের পোশাক খাতের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা থেমে থাকবে না।

ব্রেক্সিটের কারণে ইইউ-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে কোনো প্রভাব পড়বে না জানিয়ে ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, ইইউতে ব্রিটেন একটি মাত্র দেশ। এর বাইরে আরও ২৭টি দেশ আছে। এসব দেশ ইইউ কমিশনের অধীনে আগের মতোই বাংলাদেশের পাশে থাকবে। তাই ব্রেক্সিট নিয়ে বাংলাদেশের শঙ্কার কিছুই নেই। বৈঠকে বাণিজ্য সচিব মো. মফিজুল ইসলাম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শফিকুল ইসলাম, তপন কান্তি ঘোষসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি সম্প্রতি পোশাক খাতের মজুরি ইস্যুতে সাভার-আশুলিয়া এলাকায় আন্দোলন চলাকালে নিহত হওয়া শ্রমিক সুমনের পরিবারকে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে এক লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা দেন। মন্ত্রীর দপ্তরে সুমনের স্ত্রী তানিয়া বেগম ও বাবা আমির আলীর হাতে এই আর্থিক সহায়তার চেক হস্তান্তর করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত