নারী উদ্যোক্তাদের জন্য জামানতবিহীন ঋণ সুবিধা চালুর প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ (বিডা)। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে এ প্রস্তাব পাঠিয়ে সংস্থাটি বলেছে, তাদের ঋণ দেওয়ার আবেদনপত্র ও প্রক্রিয়া সহজ হতে হবে।
বিডার কর্মকর্তা ও সরকারের অতিরিক্ত সচিব মো. মোশাররফ হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘২০২১ সালে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ, ২০৪১ সালে উন্নত দেশ, ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি (টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা) অর্জনে নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারীদের বিনিয়োগ কর্মকা-ে অংশগ্রহণ বৃদ্ধির বিকল্প নেই। দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। তাদের পেছনে ফেলে দুই অঙ্কের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কোনোভাবেই অর্জন করা সম্ভব হবে না।’
গত ২০ ডিসেম্বর দেশের ইতিহাসে প্রথমবার শুধু নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে আলাদা বৈঠক করে তাদের সমস্যা ও সমাধানের উপায়গুলো শুনেছে বিডা। তাতে দেশের প্রতিষ্ঠিত নারী উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি প্রান্তিক পর্যায়ের নারী ব্যবসায়ীরাও অংশ নেন। সেখানে নারী উদ্যোক্তারা তাদের ঋণ পেতে নানা জটিলতার কথা উল্লেখ করে তা থেকে রেহাই চান। তার পরিপ্রেক্ষিতেই গত ১৫ জানুয়ারি বিডা থেকে তাদের জন্য জামানতবিহীন ঋণ এবং ঋণ আবেদন ও প্রক্রিয়া সহজ করতে এ চিঠি পাঠিয়েছে।
বিনিয়োগ ও ব্যবসায় নারী উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে বিডার সভায় বাংলাদেশ ফেডারেশন অব উইমেন এন্টারপ্রেনার্সের প্রেসিডেন্ট রোকেয়া আফজাল রহমান বলেন, নারীদের উদ্যোক্তাদের মূলধন সংকট থাকে। ঋণ নেওয়ার জন্য জামিনদার পান না তারা। ঋণ পেতে প্রয়োজনীয় দলিলাদি সম্পর্কেও অভিজ্ঞতার অভাব তাদের। তিনি নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ গ্রহণ প্রক্রিয়া সহজ করার প্রস্তাব করে বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ঋণ দেওয়া প্রয়োজন।
সভায় অংশ নেওয়া নারী উদ্যোক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনটি প্রত্যয়নপত্র দাখিল করা সাপেক্ষে চামড়ার হ্যান্ডব্যাগ তৈরিতে আর্থিক প্রণোদনা পাওয়া যায়। নারী উদ্যোক্তাদের পক্ষে এই প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না বিধায় তারা প্রণোদনাও পাচ্ছে না। ফলে দেশের চাহিদা মেটাতে বিদেশ থেকে প্রচুর হ্যান্ডব্যাগ আমদানি হচ্ছে। সহনীয় শুল্কে কাঁচামাল আমদানি, প্রণোদনা দেওয়া ও হ্যান্ডব্যাগ আমদানির ওপর শুল্ক বাড়ালে চাহিদা মেটানোর মতো হ্যান্ডব্যাগ দেশেই উৎপাদন সম্ভব। এ প্রসঙ্গে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বিনিয়োগের মূল ধারায় নারী উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করা গেলে তা অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। নানা কারণে নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসার প্রসার যেমন হচ্ছে না, তেমনি অর্থনৈতিক উন্নয়নে তাদের অবদানও আশানুরূপ নয়। তাই নারী উদ্যোক্তাদের বিশেষ সুবিধা, সহায়তা ও প্রণোদনা দেওয়ার মাধ্যমে এ পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্ভব।
তিনি বলেন, ভিশন ২০৪১ অনুযায়ী আগামী ২৩ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত রাষ্ট্রের কাতারে নিয়ে যেতে হলে নারীদের সব ধরনের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত হতে হবে। এজন্য নারীবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
