মুহিত ভাইয়ের দেখানো পথেই চলব : অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০১৯, ০৩:০৩ এএম

রাজস্ব আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে নতুন করদাতা শনাক্তে সম্পদের পরিমাণ নির্ধারণের জন্য জরিপ পরিচালনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাজে লাগাতে নতুন অর্থমন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়েছেন সদ্য বিদায়ী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। গতকাল বৃহস্পতিবার এনবিআরের সম্মেলনকক্ষে নিজের বিদায় ও নতুন মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের বরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ পরামর্শ দেন।

মুহিত বলেন, ‘আগে কর বিভাগ ভয়ংকরভাবে জনবিচ্ছিন্ন ছিল। এখন সে অবস্থা নেই। এখন তরুণরা ব্যাপকভাবে আয়কর দিচ্ছে। আয়কর রিটার্ন দাখিলকারীর সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে। এটাকে এক কোটিতে উন্নীত করা সম্ভব।’ নতুন অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ছাত্রদের কাজে লাগান। তারা বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সার্ভে করে এনবিআরকে তথ্য দেবে কার কত সম্পদ রয়েছে এবং তারাই সম্পদের ভ্যাট নির্ধারণ করবে। এটা খুবই সম্ভাবনাময় একটি উদ্যোগ হবে।’

শেখ হাসিনার সরকারে দুই মেয়াদে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের পর অবসর চেয়েছিলেন মুহিত। এজন্য এবার নির্বাচনেও অংশ নেননি তিনি। অবশ্য একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের পরদিন বলেছিলেন, শেখ হাসিনা চাইলে আরও কিছুদিন কাজ চালিয়ে যেতে তার আপত্তি নেই। কিন্তু টানা

তৃতীয় মেয়াদে শেখ হাসিনার সরকার থেকে আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ ও মতিয়ার চৌধুরীর মতো প্রবীণ রাজনীতিকের মতো ৮৫ পেরোনো এই রাজনীতিবিদও বাদ পড়েছেন।

সাবেক অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অবসর মানে এই নয় যে আমি ওল্ড হোমে চলে যাচ্ছি, আমি সক্রিয়ভাবে কার্যকর থাকব। বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে যেকোনো ধরনের সহযোগিতা আমি করব।’ আগামী বাজেটের বিষয়ে যেকোনো সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা দিয়ে যাবেন বলেও জানান অর্থমন্ত্রী হিসেবে ১২টি বাজেট ঘোষণা করা মুহিত।

নতুন অর্থমন্ত্রী এনবিআর চত্বরে গেলে ফুল দিয়ে স্বাগত জানিয়ে তাকে নিজ কক্ষে নিয়ে আসেন চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। পাঁচ মিনিট পর মুহিতকেও নিজ কক্ষে নিয়ে আসেন তিনি। এরপরই বিদায়-বরণ অনুষ্ঠান শুরু হয়।

অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, এরই মধ্যে রাজস্ব ব্যবস্থার অনেক সংস্কার হয়েছে। ২০৪১ সালের মধ্যে আমরা পৃথিবীর ২০তম অর্থনীতি দেশে রূপান্তরিত হতে চাই। তাই আমাদের আরও বেশি রাজস্ব প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে আরও সংস্কার প্রয়োজন। ৫৪ হাজার কোটি থেকে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ সম্ভব হচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে আমাদের চাহিদা অনেক। সবাই মিলে চেষ্টা করলে এ চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হব না। এজন্য দরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।

তিনি বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার পরির্বতন করতে হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যে প্রত্যাশা করি, বিদ্যমান শিক্ষা কাঠামো দিয়ে তা সম্ভব নয়। বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা টেকনোলজি-বেইজডও নয়। এই শিক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে, বর্তমান ও আগামীর চাহিদা পূরণ অসম্ভব। এজন্য শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন।

সাবেক অর্থমন্ত্রীর প্রশংসা করে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘মুহিত ভাই খুব স্পষ্টবাদী ও সজ্জন ব্যক্তি। গত ১০ বছরে যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে, তার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মুহিত ভাইয়ের অবদান অনস্বীকার্য। ১০ বছর ধরে তিনি যে অর্জন আর সম্ভাবনার বাংলাদেশ তৈরি করে দিয়েছেন সেগুলো যেন অব্যাহত থাকে সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাব।’

তিনি বলেন, ‘মুহিত ভাই অবসরে যাওয়ার আগেই বলেছিলেন, তার উত্তরসূরিদের দিকনির্দেশনা দিয়ে যাবেন। আশা করি, তার দিকনির্দেশনা পাব এবং সে অনুযায়ী আগামীতে পথ চলব।’

সবশেষে সাবেক অর্থমন্ত্রী এবং বর্তমান অর্থমন্ত্রীকে ফুল ও সম্মাননা স্মারক দেন এনবিআর চেয়ারম্যান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত