দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ২০১৯ শিক্ষা বছরের জন্য ২৬ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যের ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৪০০ পাঠ্যবই বিতরণ করা হয়। এসব বই উপজেলার ৬৭টি উচ্চ বিদ্যালয় এবং ৬টি স্কুল অ্যান্ড কলেজে দেওয়া হয়। তবে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নতুন বই বিতরণের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের হাতে একটি করে চিরকুট ধরিয়ে দেয় বেসরকারিভাবে প্রকাশিত ইংরেজি ব্যাকরণ, বাংলা ব্যাকরণ ও গাইড বই কেনার জন্য।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার চার-পাঁচটি বিদ্যালয় ছাড়া সবগুলোতেই বিনামূল্যে বিতরণ করা পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে ইংরেজি ব্যাকরণ, বাংলা ব্যাকরণ ও গাইড বই শিক্ষার্থীদের কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিতরণ করা বিনামূল্যের পাঠ্যবইয়ের মধ্যে বাংলা ব্যাকরণ ও ইংরেজি ব্যাকরণও থাকে। কিন্তু কোনো শ্রেণিতে বিনামূল্যের বই দুটি পড়ানো হয় না।
হয়রানির আশঙ্কায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, ২০১০ সাল থেকে পাঠ্যবই নিয়ে এখানে এ অবস্থা চলছে। রাজধানীর বাংলাবাজারভিত্তিক কিছু প্রকাশক নামে-বেনামে ইংরেজি ও বাংলা ব্যাকরণ বই ছাপিয়ে এখানকার মাধ্যমিক কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকদের যোগসাজশে এসব বই পাঠ্য করে আর্থিক সুবিধা নিচ্ছে।
২০১১ সাল থেকে সব শ্রেণির জন্য পাঠ্যবই বিনামূল্যে বিতরণ করা হলেও এখনো কিছু প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের বাংলা ও ইংরেজি ব্যাকরণ বই অনেক বিদ্যালয় মোটা অঙ্কের অর্থ নিয়ে পাঠ্যভুক্ত করছে। সেই সঙ্গে ব্যাকরণ বই বিতরণে কোটি কোটি টাকা অপচয় হচ্ছে সরকারের। তবে এ বিষয়ে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান বা শিক্ষক মুখ খুলতে নারাজ।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পার্বতীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুস সাত্তার সরকার এই অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, সদ্য সাবেক শিক্ষামন্ত্রী অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত গাইড বই নিষিদ্ধের পক্ষে দেশব্যাপী জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন। তবে সংসদে এ-সংক্রান্ত কোনো বিল উত্থাপন ও পাস না হওয়ায় গাইড বই দেদার চলছে। প্রতিটি শ্রেণিতে বিনামূল্যের ব্যাকরণ বই পাঠ্যভুক্ত না করার বিষয়টি দুঃখজনক বলে মনে করেন তিনি। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।
