জোটের পরিধি বাড়ার আশায় ঐক্যফ্রন্ট

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০১৯, ০৯:০৯ এএম

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির পাশাপাশি বাম গণতান্ত্রিক জোট ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর রাজনীতিতে ‘নতুন প্রেক্ষাপট’ সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে সরকারবিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পরিধি বাড়বে বলে আশা করছেন নেতারা। ভবিষ্যতের রাজনীতির কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জোটের সংলাপের পর বিষয়টি দৃশ্যমান হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ও জেএসডি সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচনের ঘোষণার পর এবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা করেছে। বাম গণতান্ত্রিক জোট ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঘোষণা করেছে, তারাও এই সরকার ও তাদের বশংবদ এই ইসির অধীনে আর কোনো নির্বাচনে যাবে না। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি এরমধ্যেই  আওয়ামী লীগের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এ অবস্থায় রাজনীতিতে নতুন প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। এখন সরকারবিরোধী সব শক্তিকে এক ছাতার নিচে আনার উদ্যোগ নেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।’

জোটের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি আগামী দিনের করণীয় নির্ধারণে ৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংলাপ হবে বলে গতকাল শুক্রবার দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ও গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী।

জোটের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সংলাপে রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজ, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, আইনজীবীসহ সর্বস্তরের জনগণের প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া হবে। তাদের মতামতের নির্যাস থেকে আগামী দিনের পথচলা শুরু করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

সংলাপ সফল করতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ও গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টুকে। রাজনীতিতে নতুন প্রেক্ষাপট তৈরি হওয়ার বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে মান্না দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এভাবে অনেক প্রেক্ষাপট তৈরি হবে। অনেক কিছুই হবে। এজন্য অপেক্ষা করতে হবে। সময় হলে সব পরিষ্কার হবে।’

তবে সংলাপ আয়োজনে পুলিশ বাধার সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করে মোস্তফা মহসীন মন্টু বলেন, ‘সরকার দেশকে একটি পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। পুলিশ সরকারের হয়ে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছে। আগের রাতে সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভরে রেখে জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। এখন নতুন করে ঝামেলা তৈরি করছে পুলিশ। সংলাপের জন্য যে জায়গা দরকার তা পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশের পক্ষ থেকে অনুমতি নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। তবে যেকোনো মূল্যে তারা সংলাপ করবেন। যেখানে জায়গা পাবেন সেখানেই সংলাপ হবে।

সংলাপে কোন কোন রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হবে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিসহ সব রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের সংলাপে আমন্ত্রণ জানানো হবে। এরমধ্যে দাওয়াতপত্র তৈরি করা হয়েছে। ফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন দেশে ফিরলে তালিকা চূড়ান্ত করে দাওয়াত দেওয়া হবে।

সংলাপে আওয়ামী লীগের কোন পর্যায়ের নেতারা থাকবেন- জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাবেক এই নেতা সরাসরি কোনো জবাব না দিয়ে বলেন, ‘সরকার জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে যা করেছে, তা আওয়ামী লীগের সব নেতা মেনে নিতে পারেননি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত