অবশেষে সেই ওটি খুলল এক শিশুর অস্ত্রোপচার

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০১৯, ০৩:২৬ এএম

পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর সীমিত আকারে চালু হয়েছে জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার (ওটি) ও ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ)। গতকাল শনিবার হাসপাতালের নতুন-পুরনো মিলে ছয়টি ওটির মধ্যে দুটি অস্ত্রোপচারের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এর একটিতে গতকাল এক শিশুর ওপেন হার্ট সার্জারিও করেছেন চিকিৎসকরা। বাকি ওটিগুলো শিগগির চালু হবে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ।

এর আগে গত সপ্তাহে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ শনিবার থেকে পুরোদমে ওটি ও আইসিইউ চালু হবে বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছিল। সে অনুযায়ী গত রবিবার থেকে রোগী ভর্তি শুরু হলেও অস্ত্রোপচারের তারিখ দেওয়া হয়নি।

গতকাল এ ব্যাপারে হাসপাতাল পরিচালক অধ্যাপক ডা. আফজালুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কিছু কাজ বাকি। সেগুলো দু-একদিনের মধ্যেই হয়ে যাবে। তখন সব ওটি চালু করা যাবে। এখন আমরা দুটি চালু করেছি। তবে রোগী ভর্তি করা হচ্ছে। আশা করছি এই সপ্তাহের মধ্যেই সব ওটিই চালু করা যাবে।’

হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দুটি ওটি চালু হয়েছে। একটিতে একজন রোগীর অস্ত্রোপচারও হয়েছে। আগামীকাল থেকে অন্য ওটিতেও অপারেশন হবে। অস্ত্রোপচার শুরু হওয়ায় খুব ভালো লাগছে। এতদিন ওটি বন্ধ ছিল। রোগীদের অনেক কষ্ট হয়েছে। কারণ এখানকার তুলনায় বাইরে অস্ত্রোপচারের ব্যয় কয়েকগুণ বেশি।’

এই চিকিৎসক জানান, গতকাল নুসরাত জাহান (৮) নামে এক শিশুর ওপেন হার্ট সার্জারিতে (হার্টে ছিদ্র রিপেয়ার) মাত্র ২০ হাজার টাকার মতো ব্যয় হয়েছে। অথচ এই অস্ত্রোপচারই বাইরের যেকোনো হাসপাতালে করলে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা লাগত। নুসরাতকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। হৃদরোগীদের আবারও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

গত সেপ্টেম্বরে হাসপাতালে অস্ত্রোপচার হওয়া সাত রোগী মারা যায়। তদন্তে ওটিতে উচ্চ মাত্রার সংক্রমণ ও চিকিৎসকদের অবহেলা ধরা পড়ে। সে সংক্রমণের কারণ খুঁজতে গিয়ে ধরা পড়ে সংক্রমণমুক্ত যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় বড় ধরনের দুর্নীতি। সবকিছু ধামাচাপা দিতে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ সংস্কারের নামে অস্ত্রোপচার বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। গত ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে এই সংস্কার কাজ শুরু হয়।

এত দীর্ঘ সময় এমন বিশেষায়িত হাসপাতালে ওটি বন্ধ রাখার ঘটনা দেশে এটাই প্রথম। কোনো নোটিস না থাকায় এ ব্যাপারে কিছুই জানত না রোগীরা। বন্ধ থাকার তথ্য ছিল না স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছেও। গত সপ্তাহে এ নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করতে গেলে এই প্রতিবেদকের কাছে এতদিন বন্ধ থাকার তথ্যে বিস্ময় প্রকাশ করেন মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা। পরে দেশ রূপান্তরে এ বিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশ হলে নড়েচড়ে বসে সবাই। হাসপাতাল পরিচালককে মন্ত্রণালয়ে ডেকে পাঠান স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও শিগগির ওটি চালুর নির্দেশ দেন। এ প্রেক্ষাপটেই গতকাল থেকে চালু হলো হাসপাতালের ওটি ও আইসিইউ।

সংস্কার শেষে ওটি ও আইসিইউকে জীবাণুমুক্ত করে বড় কলেবরে অস্ত্রোপচারের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানান হাসপাতাল পরিচালক। নতুন তিনটি কার্ডিয়াক সার্জারি ওটি ও ৩০টি আইসিইউ শয্যাসহ বর্তমানে ওটির সংখ্যা ছয়টি ও আইসিইউ শয্যা ৩৮টি।

শিশুদের জন্য এই প্রথম ১২ শয্যার আলাদা একটি আইসিইউ ইউনিট করা হয়েছে। ওটি জীবাণুমুক্ত রাখার জন্য মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধানকে নিয়ে একটি কমিটি করা হয়েছে। এই কমিটি প্রতি মাসে আইসিইউ ও ওটি থেকে নমুনা নিয়ে ল্যাবরেটরিতে পাঠাবে। রোগীর স্বজনদের ওটি কমপ্লেক্সে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সংক্রমণ রোধে ওটির দেয়াল ও মেঝেতে অ্যান্টি ইনফেকটিভ সাবস্টেইন দেওয়া হয়েছে। নিচতলার ক্যাথল্যাব দোতলায় আনা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত