কিবরিয়া হত্যার ১৪ বছর

সাক্ষী,আসামি হাজিরে ব্যর্থতায় থমকে বিচার

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০১৯, ০৩:৫৫ এএম

সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যার ১৪ বছর পূর্ণ হলেও এখনো বিচারে গতি নেই। দফায় দফায় তদন্তের পর বিচার শুরু হলেও সাক্ষী না আসা, গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের আদালতে হাজির করতে না পারাসহ বিভিন্ন জটিলতায় আটকা পুরো প্রক্রিয়া। এ অবস্থায় বিচার নিয়ে হতাশ পরিবার।

২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বৈদ্যের বাজারে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভা শেষে ফেরার পথে গ্রেনেড হামলায় শাহ এএমএস কিবরিয়া ও তার ভাতিজা শাহ মঞ্জুর হুদাসহ ৫ জন নিহত হন, আহত হন ৪৩ জন। আজ রবিবার এ হামলার ১৪ বছর পূর্ণ হচ্ছে। এ ঘটনায় হত্যা এবং বিস্ফোরক আইনে পৃথক দুটি মামলা করা হয়।

মামলার তদন্ত নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে ও গণফোরাম নেতা ড. রেজা কিবরিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তিন বছর ধরে বিচার চললেও সুষ্ঠু তদন্তের উদ্যোগ কখনো নেওয়া হয়নি। সুষ্ঠু তদন্ত না হলে সুষ্ঠু বিচার হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। তাই বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে আমরা আশাবাদী নই।’ কয়েক দফা তদন্তের পর ২০১৪ সালের ১৩ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সিনিয়র এএসপি মেহেরুন্নেছা পারুল। এতে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জি কে গউছ, বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ৩২ জনকে আসামি করা হয়। ২০১৫ সালের ২ জুন মামলা সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। সেখানে বিচার শুরু হলেও ঠিকমতো সাক্ষী হাজির না হওয়া, একাধিক মামলা থাকায় বিভিন্ন কারাগারে আটক আসামিদের আদালতে হাজির করতে না পারার কারণে দীর্ঘসূত্রতা কাটছে না।

নিহত আবুল হোসেন ও সিদ্দিক আলীর পরিবারের সদস্যরা চাঞ্চল্যকর এ মামলার বিচার বিলম্বিত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ১৪ বছরেও মামলার কোনো কিনারা না হওয়ায় হতাশ হলেও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দেখতে চান তারা।

এ ঘটনায় আহত জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির বলেন, ‘কখনো আসছে না সাক্ষী, গুরুত্বপূর্ণ আসামিরা বিভিন্ন মামলার আসামি থাকায় কখনো ঠিকমতো তাদের আদালতে হাজির করা সম্ভব হয় না। ফলে বিচার বিলম্বিত হচ্ছে।’ দুই মামলার বাদী অ্যাডভোকেট মো. আবদুল মজিদ খান এমপি জানান, আইনি জটিলতার কারণে এ বিচার দীর্ঘসূত্রতায় পড়েছে। এর মধ্যেই অনেকের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বাকিদের সাক্ষ্য নেওয়ার পর আওয়ামী লীগের এই মেয়াদেই কিবরিয়া হত্যার বিচার হবে বলে আশাবাদী তিনি।

মামলার আইনজীবী সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট কিশোর কুমার কর জানান, এখন পর্যন্ত ১৭১ জনের মধ্যে ৪৩ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। মামলার গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের আদালতে হাজির করতে না পারায় ঠিকমতো সাক্ষ্য নেওয়া যাচ্ছে না। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী দিন নির্ধারিত রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত