প্রধানমন্ত্রীর ঐক্যের ডাক এখন অর্থহীন : ফখরুল

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০১৯, ০৪:০১ এএম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যাখ্যাই প্রমাণ করে তারা ভোট ডাকাতি করে বিজয়ী হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী যে ঐক্যের ডাক দিয়েছেন তা কথার কথা। গতকাল শনিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এদিকে একাত্তরে পা রাখলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল ছিল তার জন্মদিন। তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। 

মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ের বিষয়ে কেন প্রধানমন্ত্রী ব্যাখ্যা দিলেন? নির্বাচনে জিতলে তো ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তার এই ব্যাখ্যা দেওয়াটাই প্রমাণ করে, তিনি জনগণের ভোটে জেতেননি। ভোট ডাকাতি করে নির্বাচনের ফল নিজেদের পক্ষে নিয়ে গেছেন। তার কথায় যথেষ্ট মিথ্যাচার রয়েছে। জাতিকে প্রতারিত করা হয়েছে। নিজের মনের ভেতর বিরাজমান অপরাধবোধ থেকে তিনি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন। ‘বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার যে আহ্বান প্রধানমন্ত্রী হাসিনা তার ভাষণে জানিয়েছেন’ সে প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ঐক্যের ডাক কথার কথা। এসব ঐক্যের ডাক এখন অর্থহীন। কার সঙ্গে ঐক্য? জনগণই তো এখন তাদের সঙ্গে নেই। আওয়ামী লীগ এখন গণবিচ্ছিন্ন একটি রাজনৈতিক দল। জাতির উদ্দেশে ভাষণে শেখ হাসিনা বিরোধীদের শপথ নেওয়ার যে আহ্বান জানিয়েছেন তা প্রত্যাখ্যান করে মির্জা ফখরুল বলেন, সংসদে শপথ নেওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তিনি তো গৃহপালিত একটি বিরোধী দল বানিয়েছেন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচনের আগে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) কথা দিয়েছিলেন তফসিলের পর বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হবে না, হয়রানি করা হবে না। সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। কিন্তু কোনোটাই সত্যি ছিল না।

মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ইশতেহারের ফিরিস্তি, কাজের ফিরিস্তিতে বিরাট রকমের গরমিল রয়েছে। এই যে উন্নয়নের কথা বলা হচ্ছে, এটা পুরোপুরি তো ধোঁকার উন্নয়ন। কিছু মানুষ বড়লোক হচ্ছে, ধনী হচ্ছে। পত্রিকায় রিপোর্টও এসেছে, বাংলাদেশের ধনীর সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। আর গরিব আরও গরিব হচ্ছে। নির্বাচনের নামে ‘তামাশা’ হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এই নির্বাচনের ফলে নির্বাচন কমিশনের ওপর থেকে আস্থা চলে গেল।

জন্মদিনে শুভেচ্ছা নেতাকর্মীদের : একাত্তরে পা রাখলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জন্মদিনে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। 

১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল শনিবার ছিল তার ৭১তম জন্মদিন। এদিন স্ত্রী রাহাত আরা মির্জা, ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহ ও নাতির শুভেচ্ছা নিয়ে দিন শুরু করেন বিএনপি মহাসচিব। এরপর অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী বড় মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মির্জা শামারুহর সঙ্গে কথা বলেন। ঢাকার কয়েকজন কাছের বন্ধুও ফোনে করে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এ ছাড়া লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও মহাসচিবকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মির্জা ফখরুল নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান; বসেন নিজের চেম্বারে। ওই সময় দলের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, নিতাই রায় চৌধুরী, শওকত মাহমুদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ কয়েকজন নেতাও জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান ফখরুলকে। পরে নেতাদের নিয়ে চা-বিস্কুট খেয়ে সাংগঠনিক কাজ করেন তিনি।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়ার পর জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালে হেসে উত্তর দেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘এই বৃদ্ধ মানুষদেরকে জন্মদিনের কথা বললে তাদের মৃত্যুর দিনের কথা মনে করে দেওয়া হয়। আমাদের মৃত্যু যে ঘনিয়ে আসছে। আরও একটি বছর চলে গেল। নিয়ারার টু ডেথ (মৃত্যুর কাছাকাছি)।’

বয়স কত প্রশ্ন করা হলে হেসে ফখরুল বলেন, ‘একাত্তরে পড়লাম। আমাদের তো আর গোপন করার কিছু নাই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত