ম্যাসেজিং প্লাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ, ইন্সটাগ্রাম ও মেসেঞ্জারকে একীভূত করার পরিকল্পনা করেছে ফেইসবুক। রবিবার নিউ ইয়র্ক টাইমসের বরাত দিয়ে এমন খবর প্রকাশ করেছে সিএনএন। সেবাগুলো এক্ষেত্রে আলাদা আলাদা অ্যাপেই থাকবে, তবে তাদের নেপথ্যে এলেও একই অবকাঠামো ব্যবহৃত হবে। নতুন এই উদ্যোগটি নেওয়া হলে ম্যাসেজিং প্ল্যাটফরমটি আরও সুরক্ষিত হবে বলে দাবি করেছে ফেইসবুক।
এক বিবৃতিতে ফেইসবুকের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা আমাদের মেসেজিং প্রোডাক্টগুলোকে এমনভাবে সুবিন্যস্ত করব যেন পরিবার এবং বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ হয়ে ওঠে।’
ফেইসবুকের ধারণা অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ২.৬ বিলিয়ন মানুষ ফেইসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইন্সটাগ্রাম ও মেসেঞ্জারে সক্রিয় আছে। আর প্রতিদিন গড়ে ২ বিলিয়ন মানুষ ফেইসবুক মালিকানাধীন অ্যাপগুলোতে ব্রাউজ করে।
তবে, ফেইসবুকের এমন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন ইমার্কেটার ফার্মের গবেষক ডেব্রা অ্যাহো উইলিয়ামসন। তার মতে, এমনটি করলে ব্যবহারকারীদের ওপর আরও নিয়ন্ত্রণ চলে আসবে ফেইসবুকের। এ ছাড়া বর্তমানে অনেক ব্যবহারকারীর মাথায় থাকে না যে, মেসেঞ্জার কিংবা হোয়াটসঅ্যাপ আসলে এক প্রতিষ্ঠানের। কিন্ত ‘যখন তারা এটি জেনে বুঝে ব্যবহার করবে তখন এর নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হতে পারে।
উল্লেখ্য, ফেইসবুকের মালিকানায় এলেও হোয়াটসঅ্যাপ এবং ইন্সটাগ্রামের আলাদা পরিচালক শক্তি রয়েছে। ধারাবাহিকভাবে ফেইক নিউজ, বিদেশি নির্বাচনে হস্তক্ষেপ এবং নিরাপত্তা দুর্বলতা নিয়ে অভিযুক্ত হওয়া ফেইসবুকের কাছে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
২০১৪ সালে হোয়াটসঅ্যাপ কিনে নেয় ফেইসবুক। হোয়াটসঅ্যাপের সিইও ও প্রতিষ্ঠাতা জেন কোম গত বছরের মে মাসে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন। তথ্য ব্যবস্থা নিয়ে ফেইসবুকের সঙ্গে মতপার্থক্য হওয়ায় তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। এছাড়া গত বছরেরই অক্টোবরে মার্ক জাকারবার্গের সঙ্গে মতপার্থক্যের জন্য ইন্সটাগ্রাম ছেড়ে যান এর প্রতিষ্ঠাতা ক্যাভিন সিস্টর্ম এবং মাইক ক্রিজার। ২০১২ সালে ইন্সটাগ্রামকে নিজের করে নিয়েছিল ফেইসবুক। সিএনএন
