বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য

সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান চান বাণিজ্যমন্ত্রী

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:৫৬ এএম

সচল থাকা দুটি বর্ডার হাট নিয়ে ভারত খুশি থাকলেও অসন্তোষ রয়েছে বাংলাদেশের। নিয়মানুযায়ী বর্ডার হাট থেকে দুই দেশের প্রতিটি ক্রেতার ২০০ ডলার মূল্য পর্যন্ত পণ্য কিনে নিজ দেশে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও একদিনের চাহিদার চেয়ে বেশি পরিমাণ বাংলাদেশি পণ্য নিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের প্রবেশে বাধা দিচ্ছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এ পরিস্থিতির মধ্যে আরও ছয়টি বর্ডার হাট চালুর বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ।

গতকাল সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার ড. আদরশ সোয়াইকার সামনেই বিএসএফ সদস্যদের এমন আচরণের তথ্য তুলে ধরেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) মো. শফিকুল ইসলাম। এ সময় বাণিজ্য সচিব মো. মফিজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

যেকোনো সমস্যা সমাধানের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে অনানুষ্ঠানিকভাবে হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের তা জানানোর পরামর্শ দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর অপেক্ষায় থাকলে হবে না। তাৎক্ষণিকভাবে জানিয়ে উভয় পক্ষকে যেকোনো সমস্যার সমাধান করতে হবে। 

বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ভারত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডাব্লিউটিও) নিয়ম না মেনে বাংলাদেশ থেকে হাইড্রোজেন পার অক্সাইড রপ্তানির ওপর অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের তরফ থেকে বিভিন্ন সময় যোগাযোগ করা হলেও ভারতের কাছ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। আদরশ সোয়াইকা বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন।

ভারতের পক্ষ থেকে আদর্শ সোয়াইকা বলেন, ত্রিপুরা থেকে ২৭টি পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারবে না। অথচ অন্য স্থলবন্দর দিয়ে পণ্যগুলো বাংলাদেশে আমদানি হচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশি আমদানিকারকদের বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে। বাণিজ্যমন্ত্রী এ বিষয়ে অতিরিক্ত সচিব শফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিষয়। সকল স্থলবন্দরে এনবিআরের সক্ষমতা সমান নয়। তাই যেসব বন্দরে শুল্কায়ন সম্ভব, সেসব বন্দরের মাধ্যমেই ওই সব পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়।

বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার জানান, বাংলাদেশ ভারত থেকে বেশি পণ্য আমদানি করলেও আমদানি করা পণ্যে মূল্য সংযোজন করে বাংলাদেশ তা অন্য দেশে রপ্তানি করছে। তাছাড়া, ভারত বাংলাদেশকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে। এরই মধ্যে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি আগের চেয়ে বাড়ছে।

এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করছে তার মধ্যে মোংলা, মিরসরাই ও কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় তিনটিতে ভারতীয় উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ করবেন। এরই মধ্যে মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় বেজার সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পর কাজ শুরু হয়েছে। ভারত তাদের দেশের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আনার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, দিনাজপুরের চিলাহাটি সীমান্তে একটি স্থলবন্দর নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ প্রস্তাব দিয়েছে। এরই মধ্যে ভারত অংশে সীমান্ত পর্যন্ত রেললাইন স্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশও দ্রুত নিজের অংশে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, চীনের পরেই বাংলাদেশ ভারত থেকে সবচেয়ে বেশি পণ্য আমদানি করে। গত অর্থবছর ভারত থেকে বাংলাদেশ আমদানি করেছে ৮৬২ কোটি ডলারের পণ্য। একই সময়ে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ৮৭ কোটি ডলার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত