আগামী ২ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সামনে রেখে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের হাতে তুলে দিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একাধিক প্রতারক চক্র। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেইসবুক ও হোয়াটস অ্যাপে ১০০-৫০০ টাকার বিনিময়ে এসব প্রশ্নপত্র শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলেও গ্যারান্টি দিচ্ছে এসব চক্র।
প্রশ্ন ফাঁসরোধে এক মাস কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়; সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো হবে বলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
কয়েক দিন আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, প্রশ্নপত্র সুরক্ষায় নানারকম পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো সম্ভাবনা নেই। এছাড়া যারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিজ্ঞাপন দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর পরেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় রয়েছে একাধিক গ্রুপ। ফেইসবুক, ফেইসবুক মেসেঞ্জার এবং হোয়াটস অ্যাপে ১০টির বেশি এমন গ্রুপ রয়েছে, যেখান থেকে লাগাতার প্রশ্নপত্র সরবরাহের বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে আছে- এসএসসি অল বোর্ড কোশ্চেন আউট ২০১৯, এসএসসি কোশ্চেন আউট- ২০১৯, এসএসসি কোশ্চেন সল্যুশন, জেএসসি-এসএসসি-এইচএসসি কোশ্চেন আউট, ফেইসবুক মেসেঞ্জার গ্রুপ এসএসসি ব্যাচ ২০১৯, হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ এসএসসি ২০১৯ কিউ গ্রুপ, এসএসসি মিশন ২০১৯সহ বেশ কয়েকটি গ্রুপ সক্রিয়।
এসব গ্রুপভুক্ত প্রোফাইলের মধ্যে ফয়সাল আহমেদ পাটোয়ারী নামে একজনের আইডিকে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় দেখা গেছে। এর বাইরে আরিয়ান খান, জাহিদুল আলম সরকার, জুয়েল আহমেদ, জীবন আহমেদ, নাহিদ আলী, এম এক্স মুহিতসহ অনেকগুলো আইডির নাম পরিবর্তন করতে দেখা গেছে।
ফেইসবুকে তাদের পোস্ট করা বিজ্ঞাপনগুলো ঘেঁটে দেখা গেছে, তাদের প্রলোভনগুলো প্রায়ই একই রকম। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলা হচ্ছে- ‘এসএসসি২০১৯-এর প্রশ্ন দেব, কোনো অ্যাডভান্স লাগবে না। ১০০ ভাগ কমনের পর টাকা দিবা। প্রতি প্রশ্নের টাকা পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর দিতে হবে, ৩০০ টাকা করে। তাই প্রশ্ন নিতে চাইলে জলদি ইনবক্স করো।’
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির প্রধান ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক জিয়াউল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো সুযোগ নেই। খুবই কঠোর নিরাপত্তার মাধ্যমে প্রশ্নপত্রের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়া এবার প্রশ্ন ফাঁস এবং নকল রোধে কঠোর নীতি অবলম্বন করা হচ্ছে।’
পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালে প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, এবার তার চেয়েও ভিন্ন কিছু কৌশল আমরা নিয়েছি। এবার প্রশ্নপত্রের সেট অনেক বেশি। তবে কত সেট হবে তা আগে থেকেই জানানো যাবে না। প্রয়োজনে ভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ারও ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে এবার অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল পেপারের খামে প্রশ্নপত্র পাঠানো হবে বলে গত কয়েকদিন আগেই ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এ ছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গতকাল রবিবার থেকে সারা দেশের সব ধরনের কোচিং সেন্টার বন্ধ রয়েছে। এসব কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত অর্থাৎ আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
ডিএমপির সাইবার নিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সক্রিয় ‘ভুয়া প্রশ্নপত্র পোস্ট ও গুজব রটনাকারীদের’ দ্রুত আইনের আওতায় আনতে ১০টি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি নকল রোধে পরীক্ষা কেন্দ্রে বসানো হবে ম্যাগনেট, অপটিক ও ফ্রিকোয়েন্সি ডিটেক্টর।
ডিএমপির সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম ডিভিশনের উপকমিশনার (ডিসি) মো. আলিমুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে যে চক্রটি এসব ভুয়া পোস্ট দিয়ে গুজব ছড়াচ্ছে, তাদেরকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। আমাদের টিম অভিযান চালাচ্ছে। তাদেরকে আটক করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’
আগামী ২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় মোট চার হাজার ৯৬৪টি কেন্দ্রে ২৫ লাখ ৭৩ হাজার ৪৫১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবে। এর মধ্যে এসএসসি পরীক্ষায় ২১ লাখ ৩৭ হাজার ৩০৭ জন, দাখিল পরীক্ষায় তিন লাখ ১০ হাজার ২৭২ জন এবং কারিগরিতে অংশ নেবে এক লাখ ২৬ হাজার ৩৭২ জন। পরীক্ষার এক সপ্তাহ আগে ২৭ জানুয়ারি থেকে পরীক্ষা চলার সময় ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব ধরনের কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে।
