সাবেক স্বামীর ছোড়া এসিডে মুখ ঝলসে যাওয়া হাবিবা আক্তারের এখন দুঃসহ দিন কাটছে হাসপাতালে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের ৫১৯ নম্বর কক্ষে চিকিৎসাধীন তিনি। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় দেখা যায়, মেঝেতে শোয়া হাবিবার দু’চোখে একরাশ হতাশা। এসিডে তার পুরো মুখমণ্ডল ও গলার কিছু অংশ ঝলসে গেছে। ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা ও শঙ্কায় ভেঙে পড়েছেন তিনি। কথা বলতে গিয়ে বারবার গলা ভিজে আসছিল তার মা সাফিয়া আক্তারের। মেয়ের এমন পরিস্থিতি কিছুতেই মানতে পারছেন না তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে এর বিচার দাবি করেছেন সাফিয়া। এদিকে এসিড নিক্ষেপে অভিযুক্ত মোমিন মিয়াকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বাগাশুসরা গ্রামের দুবাই প্রবাসী এখলাস মিয়ার মেয়ে হাবিবা আক্তার (১৮)। পরিবারের অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শোয়ার ঘরে ঢুকে এসিড নিক্ষেপ করে তার সঙ্গে সদ্য বিচ্ছেদ ঘটা স্বামী মোমিন মিয়া (২২)। উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল, সেখান থেকে সিলেট ওসমানী মেডিকেলের পর গত শনিবার সকালে তাকে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে আনা হয়। একই ঘটনায় হাবিবার সঙ্গে শুয়ে থাকা চাচাতো বোন আয়শাও (১২) দগ্ধ হয়। চতুর্থ শ্রেণিতে পড়–য়া আয়শাকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাড়ি নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত মোমিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার মৃত সাহেব আলীর ছেলে।
হাবিবার মা সাফিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ৮-৯ মাস আগে দূরসম্পর্কের আত্মীয় কসমেটিকস ব্যবসায়ী মোমিন মিয়ার সঙ্গে হাবিবার বিয়ে হয়। বিয়ের ৩-৪ মাস পর হাবিবার সঙ্গে আর বনিবনা হচ্ছিল না মোমিনের। গত ১২ জানুয়ারি আদালতের মাধ্যমে তাদের বিয়ে বিচ্ছেদ করা হয়। এরপর এলাকার আরেক ছেলের সঙ্গে বিয়ের কথা চলছিল হাবিবার। বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষিপ্ত হয় মোমিন।
সাফিয়ার অভিযোগ, ‘গত বৃহস্পতিবার রাতে হাবিবা চাচাতো বোনসহ ঘুমিয়েছিল। রাত ২টার দিকে মোমিন কৌশলে দরজা খুলে হাবিবার মুখে এসিড ছুড়ে পালিয়ে যায়।’ হাবিবা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রাতে যখন ঘুমিয়ে ছিলাম তখন রুমের লাইট জ্বলছিল। ঘুমন্ত অবস্থায় মুখে হঠাৎ জ্বালাপোড়া করতে থাকে। চোখ খুলতেই দেখি মোমিন রুমের লাইট বন্ধ করে দৌড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে।’
ঢামেক বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ নওয়াজেস খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হাবিবা এখন আশঙ্কামুক্ত। কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি চলে যেতে পারবেন বলে আশা করছি।’
হাবিবার বড় ভাই সৈয়দ মিয়া বলেন, ‘মোমিন মিয়াকে প্রধান আসামি করে মাধবপুর থানায় মামলা করেছি।’ হবিগঞ্জের মাধবপুর থানার ওসি চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘মোমিনকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তার বোনকে আটক করা হয়েছে।’
