বন্ধের নির্দেশের পরও খোলা কোচিং সেন্টার

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০৩:৩৭ এএম

আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সামনে রেখে গত রবিবার থেকে সব ধরনের কোচিং সেন্টার বন্ধের কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। গত দুদিনে রাজধানী ঘুরে বেশ কিছু কোচিং সেন্টার খোলা দেখা যায়। তবে কিছু প্রতিষ্ঠান সরকারি আদেশ মেনে কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। রাজধানীর ফার্মগেট, মোহাম্মদপুর, আজিমপুর, ধানমন্ডি, মিরপুরসহ কয়েকটি এলাকা ঘুরে এই চিত্র পাওয়া গেছে। নির্দেশ না মানলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে ২৭ জানুয়ারি থেকে আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এক মাস সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গতকাল সোমবার ফার্মগেট আনন্দ সিনেমা হলের উল্টো পাশে বিটিআই প্লাজার ষষ্ঠ তলায় সাইফুরস কোচিং সেন্টার খোলা পাওয়া গেছে। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, অন্যদিনের মতো ভর্তি-ক্লাসসহ সব কার্যক্রম চলছে। ইউসিসি কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকলেও রিসেপশন ডেস্কে দুই নারী কর্মীকে ভর্তির কাজ করতে দেখা যায়। রাজধানীর আজিমপুরে সজীব একাডেমি ও ডিভাইন সায়েন্স একাডেমিক কোচিং খোলা পাওয়া গেছে। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে কার্যক্রম চালানোর বিষয়ে জানতে চাইলে সাইফুরসের শাখা ব্যবস্থাপক আবদুল্লাহ আল মামুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন দেশের ভাষার ওপর বেশি কোর্স করিয়ে থাকি।  এ কারণে প্রতিষ্ঠান খোলা রেখেছি। পাশাপাশি জুন-জুলাই থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোর্স শুরু করা হয়। তাই সারা বছর ভর্তি নেওয়া হয়।’ তিনি বলেন, ‘এখন ভর্তি না করলে পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী পাওয়া সম্ভব হবে না।’ ইউসিসির রিসিপশন ডেস্কে দুই নারী কর্মী বলেন, ‘আমাদের কোচিং সেন্টার বন্ধ। সব ভর্তি কার্যক্রম এখন অনলাইনেই হয়।’

অবশ্য ফার্মগেট এলাকায় ম্যাবস, প্যারাগন, ওরাকল বিসিএস, আইকন, ফোকাস, উদ্ভাসসহ কয়েকটি কোচিং সেন্টার বন্ধ ছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের সামনে বন্ধের নোটিস ঝোলানো হয়েছে। ওরাকল কোচিং সেন্টারের ফার্মগেট শাখার ব্যবস্থাপক মো. উজ্জ্বল বলেন, ‘সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমরা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছি। যদিও আমাদের কোচিং সেন্টার কোনো একাডেমিক কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট নয়।’ রাজধানীর আজিমপুরে মেধা বিকাশ, সমীকরণ, প্রত্যাশা, সিওসি, ই-হক একাডেমিক কোচিং, উদয় ক্যাডেট কোচিং সেন্টারও বন্ধ পাওয়া গেছে।

আজিমপুরে ডিভাইন সায়েন্স একাডেমিতে গিয়ে দেখা যায়, কোচিং সেন্টারটি খোলা। অভিভাবকদের অনুরোধে খোলা রাখা হয়েছে জানিয়ে কোনো ক্লাস চলছে না বলে দাবি করেন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা সন্দীপ। কোচিং বন্ধের সমালোচনা করে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শিক্ষকরা ক্লাসে ভালোভাবে পড়ান না বলেই অভিভাবকরা সন্তানদের কোচিংয়ে দেন। আমরা প্রশ্ন প্রণয়ন ও বিতরণ করি না, তবে কেন পাবলিক পরীক্ষার আগে কোচিং সেন্টার বন্ধ করে দেওয়া হয়?’ তিনি বলেন, ‘যেখান থেকে প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে সেখানে নজর দিলে কাজের কাজ হবে।’ কয়েকজন অভিভাবকও এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। রতন অধিকারী নামে এক অভিভাবক বলেন, ‘আমরা চাই প্রশ্ন ফাঁস রোধে যা করণীয় সরকার করুক। কোচিং সেন্টার বন্ধ করে কি আদৌ তা সম্ভব হবে?’

কোচিং সেন্টার বন্ধের দায়িত্বে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার শেখ নাজমুল আলম বলেন, এসএসসি পরীক্ষা চলাকালে সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখতে হবে। কেউ এর ব্যত্যয় ঘটালে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগে কোনো ধরনের কোচিং সেন্টার খোলা রাখা যাবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত