দশম সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের কোনো সংসদ সদস্যকেই একাদশ সংসদে রাখছে না আওয়ামী লীগ। ক্ষমতাসীন দলটির কেন্দ্রীয় দুই নেতা দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা যারা দশম সংসদে সদস্য ছিলেন তাদের এবার না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা আরও বলেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে যেসব নারী নেতা আছেন তাদেরও সংসদে নিতে চান না শেখ হাসিনা। এ ছাড়া দলের সহযোগী সংগঠনগুলো যেমন : মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ এর শীর্ষ পদে যারা রয়েছেন তাদেরও সংসদে রাখতে চান না তিনি। তবে মহিলা আওয়ামী লীগ ও যুব মহিলা লীগের বিভিন্ন ইউনিটের নেত্রীদের রাখা হতে পারে। অবশ্য শেষ পর্যন্ত দশম সংসদের দু-তিনজন থেকে যেতে পারেন বিভিন্ন হিসাবে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, নাটক-সিনেমার অনেক শিল্পী এবার সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচন করতে চান। তারা আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র কিনেছেন। তাদের মধ্য থেকে একমাত্র সুবর্ণা মুস্তাফার সংসদ সদস্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, সারা দেশের যেসব নারী আওয়ামী লীগের রাজনীতির জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, যাদের পরিবারের ত্যাগ রয়েছে এবং মনোনয়ন পাওয়ার যোগ্যতা থাকলেও যাদের দেওয়া সম্ভব হয়নি তাদের স্ত্রী-সন্তান মহিলা সংসদ সদস্য হিসবে শেখ হাসিনার বিবেচনায় এগিয়ে আছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন পেশায় সুনামের সঙ্গে রয়েছেন, শিক্ষা-দীক্ষায় ভালো এবং সম্ভাবনাময় এমন কয়েকজন মহিলারও সংসদ সদস্য হওয়ার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক। সে ক্ষেত্রে আইনজীবী, সমাজকর্মী, মানবাধিকারকর্মী ও ডাক্তারদের মহিলা সংসদ সদস্য হিসেবে রাখা হতে পারে। এবারের সংসদকে ‘গর্জিয়াস’ করে তুলতে এই চিন্তা করছেন শেখ হাসিনা।
দলের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বেলে জানা গেছে, সংরক্ষিত মহিলা আসনের প্রার্থীদের মনোনয়ন ফরম যাচাই-বাছাই করছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা প্রার্থীদের ব্যাপারে খোঁজ-খবরও নিচ্ছেন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে। প্রাথমিক বাছাইয়ে শেখ হাসিনা যাদের এগিয়ে রেখেছেন তাদের যাচাই-বাছাই চলছে এখন। শেখ হাসিনা চাচ্ছেন- এমন কিছু মহিলা সংসদ সদস্য থাকবেন যারা দেশে-বিদেশে সরকারের ও দলের পক্ষে কথা বলার যোগ্যতা রাখেন। সভা-সেমিনারে যুক্তি-তর্কে এগিয়ে থাকতে পারেন।
সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ছয়জন সংসদ সদস্যের বিপরীতে সংরক্ষিত মহিলা আসনে একজন সংসদ সদস্য হন। একাদশ সংসদে আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সদস্য ২৫৭ জন। এ হিসাবে ৪৩টি সংরক্ষিত আসন পাবে দলটি। এসব আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে ১৫১০ জন ফরম সংগ্রহ করে দলীয় কার্যালয়ে জমাও দিয়েছেন। গণভবন সংশ্লিষ্ট একজন জানান, দলীয় কার্যালয় থেকে সব মনোনয়নপত্র প্রধানমন্ত্রী তার হাতে নিয়ে এসেছেন। কাকে সংসদ সদস্য বানানো যায়- তা নির্বাচন করছেন তিনি নিজেই।
নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট একজন দেশ রূপান্তরকে বলেন, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি তফসিল ঘোষণা করা হবে। এরপর মধ্য ফেব্রুয়ারির আগে নির্বাচন হবে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, যোগ্যতা-দক্ষতা ও রাজনৈতিক ত্যাগের ব্যাপারটি অগ্রাধিকার দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহিলা সংসদ সদস্য নির্বাচন করতে চান।
