শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র বানচাল জড়িত ছিলেন জেনারেল নাভিদ

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০১৯, ০৩:৪৯ এএম

বাংলাদেশে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার পরিবারের সদস্যসহ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের হত্যার ষড়যন্ত্র বানচাল করা হয়েছে। ঢাকার এক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার এই সংবাদ প্রকাশ করেছে ভারতীয় মিডিয়া দ্য ইকোনমিক টাইমস।

সূত্র জানায়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র চোরাচালানের পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই’র চক্রান্ত বন্ধুত্বপূর্ণ অংশীদারদের সহায়তায় ব্যর্থ করে দেওয়া হয়।

হত্যা পরিকল্পনার পেছনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন আইএসআই’র (ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স) লেফটেন্যান্ট জেনারেল নাভিদ মোক্তার। সূত্র দাবি করে, এই পরিকল্পনার সঙ্গে বাংলাদেশের নৌবাহিনী এবং কোস্টগার্ডের কিছু সদস্য জড়িত ছিলেন। পরিকল্পনার পেছনে

পাকিস্তানপন্থি মৌলবাদী দল জামায়াতে ইসলামীর কোনো ভূমিকা আছে কি না তা জানা যায়নি।

ডিসেম্বরের ৩০ তারিখের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের বন্দর দিয়ে গ্রিসের পতাকাবাহী একটি জাহাজে করে একে-৪৭, কারবাইন এবং গ্রেনেড প্রবেশ করানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু জাহাজটি মাঝপথেই ডুবে যায় বলে সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়। এই ঘটনা ২০০৪ সালের দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালানের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। ওই সময় বিএনপি ছিল রাষ্ট্রক্ষমতায়। অপর এক সূত্র দাবি করে, ‘দেশে দাঙ্গা-হাঙ্গামা তৈরির জন্য প্রধানমন্ত্রী হাসিনা এবং তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। জাহাজ থেকে রিমোটের মাধ্যমে ঢাকায় বোমা বিস্ফোরণের পরিকল্পনাও করা হয়েছিল।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপি নেতা এবং বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান বর্তমানে লন্ডনে নির্বাসিত আছেন। ঢাকার পাকিস্তান হাই কমিশন এই চক্রান্তে সহযোগিতা করে বলে অভিযোগ আছে। ঢাকার অন্য একটি সূত্র দাবি করে, এই চক্রান্ত সম্পর্কে স্থানীয় কিছু বিএনপি নেতা জানতেন না। ২০০৪ সালের অস্ত্র চোরাচালান মামলায় তারেক রহমান এবং উলফা নেতা পরেশ বড়–য়ার নামে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। হাসিনাকে ২০০৪ সালের মতোই গ্রেনেড হামলায় হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ওই হামলায় আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা নিহত ও আহত হয়।

ইকোনমিক টাইমস এর আগে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচনে পাকিস্তানপন্থি বিএনপি এবং মৌলবাদী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের ক্ষমতায় আনতে এবং ফান্ড জোগাড়ে দুবাইভিত্তিক এজেন্টের মাধ্যমে কাজ করেছিল আইএসআই। তারেক রহমান আইএসআই’র এই কৌশলের অন্যতম চ্যানেল ছিল বলে অভিযোগ আছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তারেক রহমানের সহযোগী এবং দুবাইভিত্তিক আইএসআই এজেন্টদের মাধ্যমে অর্থ সরবরাহ করা হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। সে সময় শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা বিদেশে ছিলেন। ১৯৮১ সালের ১৭ মে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিদেশ থেকে বাংলাদেশে ফিরে আসেন শেখ হাসিনা। এরপর বেশ কয়েকবার তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত