বেতন বৃদ্ধির দাবিতে সর্বশেষ আন্দোলনের পর বিভিন্ন কারখানা থেকে পাঁচ হাজারেরও বেশি পোশাক শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। অনেকের বিরুদ্ধে মামলা ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানিয়েছেন শ্রমজীবী ও শিল্পরক্ষা আন্দোলনের নেতারা।
সভায় লিখিত বক্তব্যে শ্রমজীবী ও শিল্পরক্ষা আন্দোলনের সদস্য সচিব হারুনুর রশীদ ভূঁইয়া বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের মুখে গত ৯ জানুয়ারি একটি ত্রিপক্ষীয় কমিটি গঠন করে মজুরি নির্ধারিত হয়। কিন্তু এ মজুরিতে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা রক্ষিত হয়নি। তিনি বলেন, সরকার ও মালিকপক্ষ মজুরি বৃদ্ধির পরিবর্তে চরম নির্যাতনের মাধ্যমে আন্দোলন দমনের পথ গ্রহণ করেছে। হাজার হাজার শ্রমিকের নাম ও ছবি যার যার কারখানার গেটে ঝুলানো হয়েছে। তাদের নামে মিথ্যা মামলা করা হচ্ছে। অনেকেই স্থানীয় মাস্তান ও পুলিশের যন্ত্রণায় বাড়িতে থাকতে পারছে না। অনেককে চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে।
হারুনুর রশীদ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত চাকরিচ্যুত শ্রমিকের সংখ্যা পাঁচ হাজারের বেশি।’ মালিকপক্ষ শ্রমিকদের দমনের বিষয়টি শিল্পের জন্য ক্ষতিকর বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংযুক্ত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রহমান বাবলু পোশাককর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের আন্দোলন বৃথা যায়নি। ২০১৩ সালে আন্দোলনের পর মজুরি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছিল। ২০১৮ সালে যখন আমরা আন্দোলনে নামলাম, তখন আমাদের ওপর নির্যাতন এলেও আন্দোলন থেমে থাকেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘মালিকপক্ষ আমাদের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ব্যয় মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে। আমি অবিলম্বে সব শ্রমিকের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার চাই, পাশাপাশি শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।’ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শ্রমিক ছাঁটাই ও সব ধরনের দমনের দায় মজুরি বোর্ডকেই নিতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে গবেষক ড. খন্দকার গোলাম মোজাম্মেল বলেন, ‘শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য পাওনা চাচ্ছে, অন্যায়-অবৈধ কিছু চাচ্ছে না। কেন শ্রমিকরা হতাশা নিয়ে গার্মেন্টসে কাজ করবে? আমি বলতে চাই, আপনাদের এ দাবিগুলো জাতীয়ভাবে নয়, আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনা হওয়া উচিত। আপনারা অনেকেই জানেন না, নতুন মজুরি কত? আপনাদের গ্রেড কত? আপনাদের এগুলো জানা উচিত।’
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি সাদেক হোসেন স্বপন, পোশাক শ্রমিক রিনা আক্তার, চায়না আক্তার, জয়নাল আবেদীন প্রমুখ।
