ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল ছাত্র সংসদ নির্বাচনে কারা কারা ভোটার ও প্রার্থী হতে পারবেন, সে ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়
কর্র্তৃপক্ষ। এতে ভোটকেন্দ্র ও বয়সের বিষয়ে ছাত্রলীগের মতকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে অন্য
সংগঠনগুলো। ছাত্রলীগ এ সিদ্ধান্তকে ‘নবদিগন্তের সূচনা’ বললেও বাকিরা ক্ষোভ জানিয়েছে। সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট।
গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় গঠনতন্ত্রের সংশোধন ও পরিমার্জন করা হয়। সভা শেষে এ ঘোষণা দেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এনামুজ্জামান।
গঠনতন্ত্রের সংশোধনীতে ভোটার হওয়ার যোগ্যতার বিষয়ে বলা হয়, ‘যে সকল শিক্ষার্থী ১ম বর্ষ ¯œাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে অনার্স/মাস্টার্স/এমফিল পর্যায়ে অধ্যয়নরত আছে এবং যারা বিভিন্ন আবাসিক হলে আবাসিক/অনাবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে সংযুক্ত রয়েছে এবং নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখে যাদের বয়স কোনোক্রমেই ৩০ বছরের অধিক হবে না, কেবলমাত্র তারাই ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে ভোটার হতে পারবে। সকল ভোটারই প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা রাখে।’
এ বিষয়ে আরও বলা হয়, ‘উপরোক্ত শিক্ষার্থীরা ব্যতীত অন্য যারা সান্ধ্যকালীন বিভিন্ন কোর্স/ প্রোগ্রাম/ প্রফেশনাল/ এক্সিকিউটিভ/ স্পেশাল মাস্টার্স/ ডিপ্লোমা/ এমএড/পিএইচডি/ ডিবিএ/ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স/ সার্টিফিকেট কোর্স অথবা এ ধরনের অন্যান্য কোর্সে অধ্যয়নরত আছে তারা ভোটার হতে পারবে না।’
সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্র আবাসিক হলেই স্থাপন করা হবে। এতে কিছু আচরণবিধিও অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে লিফলেট বা হ্যান্ডবিলে সাদা-কালো ছবির ব্যবহার, কোনো ধরনের স্থাপনা, যানবাহন ও দেয়ালে লেখা নিষিদ্ধ করা, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল না লাগানোর বিষয়গুলো রয়েছে। এ ছাড়া সভা-সমাবেশের অনুমতি নেওয়ার সময় ৪৮ ঘণ্টা আগের বদলে ২৪ ঘণ্টা আগে করা হয়।
এর আগে গত ২৩ জানুয়ারি ‘পরিবেশ পরিষদের’ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ছাত্রসংগঠনের নেতারা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। এ দাবিগুলোর মধ্যে হলের পরিবর্তে একাডেমিক ভবনগুলোতে ভোট কেন্দ্র করা ও কেন্দ্রগুলো সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া বয়সের বিষয়টি নিয়েও নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বিধাবিভক্তি দেখা যায়।
ভোটকেন্দ্র একাডেমিক ভবনে করার কথা ছাত্রলীগ ছাড়া সব ছাত্রসংগঠন বলেছিল। ভোটকেন্দ্র একাডেমিক ভবনে স্থাপন করতে ঢাবি ক্যাম্পাসে গত সোমবার ও গতকাল মঙ্গলবার বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্র ইউনিয়ন ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট।
সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের বিষয়ে ছাত্র ইউনিয়নের ঢাবি শাখার সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ডাকসুর নেওয়া সিদ্ধান্ত ছাত্রলীগকে সুবিধা দেওয়ার জন্য করা হয়েছে। হলে ছাত্রলীগের আধিপত্যের কারণে কোনো দলের কর্মীরা হলে থাকতে পারছে না। সে ক্ষেত্রে হলের ভেতর ভোটকেন্দ্র দিয়ে প্রমাণ করল, ঢাবি প্রশাসন ছাত্রলীগকে জয়ী করার জন্য নীলনকশা করছে।’
ছাত্রলীগের ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন বলেন, ‘আজকের সিন্ডিকেটের সভার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নবদিগন্তের সূচনা হয়েছে। আমরা আশা করি, দ্রুত ভোটার তালিকা এবং তফসিল ঘোষণা করা হবে।’
এই বিষয়ে ছাত্রদলের ঢাবি শাখার সভাপতি মেহেদী তালুকদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আজকের ঢাবি সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত আমরা নিন্দা জানাচ্ছি। এটি সরকারি দলকে সুবিধা দেওয়ার জন্য করা হয়েছে।’
সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের ঢাবি শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সিন্ডিকেটের এই সিদ্ধান্ত একপাক্ষিক। আমরা পরিবেশ সংসদের মিটিংয়ে আমাদের দাবিগুলো ব্যাখ্যা করেছি। কিন্তু প্রশাসন আমাদের দাবি রাখেনি।’
আগামী ১১ মার্চ ডাকসু ও হল ছাত্র সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে দৃশ্যমান বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ।
