চট্টগ্রামে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন, যিনি দুদিন আগে এক কিশোরীকে দল বেঁধে ধর্ষণের ঘটনায় সন্দেহভাজন বলে দাবি করেছে পুলিশ। নিহত সাহাবুদ্দিন (২৩) কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার মৌলভীপাড়ার মফজল হোসেনের ছেলে। তিনি নগরীর মইজ্জ্যারটেক এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে চেরাগীর পাহাড় এলাকার এক ব্যাংক কর্মকর্তার গাড়ির চালাতেন। গত সোমবার গভীর রাতে পুলিশের অভিযানের সময় ফিরিঙ্গিবাজার মেরিনার্স রোডে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এস এম মেহেদী হাসান। গতকাল মঙ্গলবার কোতোয়ালি থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, অভিযানের সময় ধর্ষণের অভিযোগে শ্যামল দে (৩০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি রাঙ্গুনিয়ার পদুয়া এলাকার মৃত হরি কুমার দের ছেলে। ডিসি রোডের এক বাড়িতে ভাড়া থেকে এক চিকিৎসকের গাড়ি চালাতেন। এ ঘটনায় জড়িত আরও একজনের নাম জানা যায়নি। তার চেহারার বর্ণনা পাওয়া গেছে।
কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন বিকেলে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সাহাবুদ্দিন নিহত হওয়ার পর তাকেসহ উল্লিখিত তিন জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, অস্ত্র আইন ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে আলাদা মামলা হয়েছে। এর মধ্যে গ্রেপ্তার শ্যামল ধর্ষণের মামলায় চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম মোহাম্মদ খাইরুল আমীনের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
এর আগে পুলিশ কর্মকর্তা মেহেদী হাসান সাংবাদিকদের সামনের ধর্ষণের ঘটনার ও পুলিশের অভিযানের বিস্তারিত বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, সাহাবুদ্দিন, শ্যামল ও অজ্ঞাতনামা একজন গত রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় প্রাইভেটকারে (চট্ট-মেট্রো-১২-৩০৫২) করে এসে জামালখাঁন মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা স্থানীয় এক মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে জোর করে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। তারা মেয়েটির মোবাইল নম্বর নিয়ে তাকে আবারও তাদের কাছে যেতে বলে। কল দেওয়া মাত্রই না গেলে তার ছবি ও ধর্ষণের ভিডিও ভাইরাল করার হুমকি দেয়।
তিনি বলেন, পরদিন সোমবার সাহাবুদ্দিন মেয়েটিকে ফোন দিয়ে দিদার মার্কেটের সামনে আসতে বললে সে কোতোয়ালি থানায় জানালে কৌশলের অংশ হিসেবে তাকে সেখানে গিয়ে গাড়িতে উঠতে বলা হয়। ওই সময় গাড়িতে (চট্ট-মেট্রো-গ-১৩-৪১৫১) শ্যামল ছিল না। পুলিশ গাড়িটিকে ধাওয়া দিলে ঘুরতে ঘুরতে লালদিঘীর পাড়ে যানজটে আটকা পড়ে। তখন সাহাবুদ্দিন ও তৃতীয় ব্যক্তি মেয়েটিকে রেখেই গাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। পুলিশ রাতে অভিযান চালিয়ে চকবাজার এলাকার ডিসি রোড শ্যামলকে গ্রেপ্তারের পর তার তথ্যের ভিত্তিতে ভিত্তিতে ফিরিঙ্গীবাজার মেরিনার্স রোডে অভিযানে গেলে সাহাবুদ্দিন ও তার সহযোগীরা পুলিশের দিকে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়লে আসামিরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সাহাবুদ্দিনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ান শুটার গান ও চারটি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে আহত হয়েছেন পুলিশের তিন সদস্য।
গত শনিবার দুপুরে ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ার দশ দিন আগের একটি ধর্ষণের মামলার আসামির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃতদেহের গলায় বাঁধা একটি কাগজে লেখা, ‘আমার নাম......মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ করার কারণে আমার এই পরিণতি।’ এর আগে জানুয়ারি সাভারে আরেকটি ধর্ষণ মামলার আসামির মৃতদেহ পায় পুলিশ, যার গলাতেও একটি কাগজে লেখা ছিল, ‘আমি ধর্ষণ মামলার মূল হোতা।’ দুটি ঘটনায়ই গুলিবিদ্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে জানালেও কারা তাদের হত্যা করেছে তা জানাতে পারেনি পুলিশ।
