দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাংক কেলেঙ্কারির মামলায় কারাবন্দি হল-মার্ক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তানভীর মাহমুদ নিজের ও স্ত্রী জেসমিন ইসলামের মুক্তি চেয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে চিঠি দিয়েছেন। সাত বছর আগে গ্রেপ্তার হওয়া তানভীর বলেছেন, ‘মিথ্যা মামলা’ থেকে রেহাই মিললে প্রথম বছর পর ১২ কোটি, দ্বিতীয় বছর পর ২৪ কোটি ও পরের বছরগুলোতে ১২০ কোটি টাকা করে পরিশোধ করবেন।
হল-মার্ক গ্রুপের অফিশিয়াল প্যাডে লেখা তানভীর মাহমুদের আবেদনটি গত ১৫ জানুয়ারি সত্যায়িত করে পাঠিয়েছেন কাশিমপুর কারাগারের একজন ডেপুটি জেলার। চিঠিটি গত রবিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর দপ্তরে এসে পৌঁছায় বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ২০১০ থেকে ২০১২ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়ে সোনালী ব্যাংকের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল (শেরাটন) শাখা থেকে ২ হাজার ৬৬০ কোটি টাকা ঋণ নেয়। এর মধ্যে ১১০০ কোটি টাকার ঋণ ভুয়া কাগজপত্র ও স্বাক্ষরহীন আবেদন দিয়ে হাতিয়ে নেয় হল-মার্ক গ্রুপ। এর মধ্যে হল-মার্ক গ্রুপের কাছ থেকে মোট ৪১০ কোটি টাকা পেয়েছে সোনালী ব্যাংক। বাকি দুই হাজার ২৫০ কোটি টাকার সঙ্গে সুদ যোগ করলে ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি পাওনা হয়েছে সোনালী ব্যাংকের।আ হ ম মুস্তফা কামালের কাছে পাঠানো চিঠিতে তানভীর মাহমুদ বলেছেন, ‘কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্রের কারণে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হওয়ায় আমি প্রায় সাত বছর যাবৎ জেলহাজতে আছি। আমার স্ত্রী জেসমিন ইসলাম তিন বছর যাবৎ জেলে আছে। এই দীর্ঘ সময়ে সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান, এমডি ও পরিচালনা পর্ষদ বরাবর ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য অসংখ্যবার আবেদন করেছি। তবুও এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘আমার বন্দিকালীন হলমার্কের শিল্পকারখানার উৎপাদন বন্ধ এবং যন্ত্রপাতির কার্যক্ষমতা প্রায় নষ্ট হয়ে পড়েছে। ব্যাংকের ঋণের অর্থ অপরিশোধিত অবস্থায় আছে। গ্রেপ্তারের আগ পর্যন্ত ঋণের টাকা নিয়মিত শোধ করেছি, এক কিস্তির জন্যও খেলাপি হইনি। সোনালী ব্যাংক থেকে পুরো অর্থ আমি পরিশোধ করার অঙ্গীকার করছি।’
জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করে চিঠিতে তানভীর বলেন, প্রথম বছর ধ্বংসপ্রায় যন্ত্রপাতি ও কারখানা সংস্কার করে উৎপাদন শুরু করতেই অনেক অর্থ ও সময় লাগবে। এ কারণে প্রথম বছর পর তিনি ১২ কোটি টাকা দেবেন। ছয় বছর ধরে উৎপাদন বন্ধ ও এমডি-চেয়ারম্যান জেলে থাকার কারণে দেশ-বিদেশের ক্রেতাদের কাছে সুনামহানি হয়েছে। সুনাম ফেরাতে ও কারখানাগুলোতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে অনেক সময় ও অর্থ ব্যয় হবে। তাই দ্বিতীয় বছর ২৪ কোটি টাকা পরিশোধ করবে হলমার্ক। তৃতীয় বছর থেকে নিয়মিতভাবে বছরে ১২০ কোটি টাকা করে পরিশোধ করার অঙ্গীকার করেছেন তানভীর।
ব্যাংক জালিয়াতির এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় ২০১২ সালের আগস্টে গ্রেপ্তার হন তানভীর। ওই বছরের অক্টোবরে গ্রেপ্তার হন তার স্ত্রী ও হলমার্ক গ্রুপের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলাম। পরের মাসে ১০০ কোটি টাকা করে ঋণ পরিশোধের শর্তে জামিন নেওয়া জেসমিন সম্পত্তির হিসাব না দেওয়ার অভিযোগে দুদকের আরেক মামলায় গ্রেপ্তার হন তিন বছর আগে। এর মধ্যে হলমার্ক গ্রুপের অনেক নিবন্ধনহীন গাড়ি, শিল্পকারখানার যন্ত্রপাতি, খামারের গরু, নির্মাণাধীন ভবনের জন্য আগে থেকে কেনা নির্মাণ সামগ্রী ও তৈরি পোশাকের কাচামাল বিক্রি করে দেন জেসমিন ইসলাম।
