রাজনৈতিক আবহের এক ম্যাচ। তাতে স্বাগতিক সংযুক্ত আরব আমিরাতকে তুলোধুনা করল কাতার। প্রতিবেশীদের উড়িয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপ ফুটবলের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আরব উপদ্বীপের ক্ষুদ্র দেশটি।
আবু ধাবির মোহাম্মদ বিন জায়েদ স্টেডিয়ামে বুধবার রাতে সেমি-ফাইনালে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৪-০ গোলে হারায় কাতার।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বেশ কিছু দিন ধরেই সৌদি আরবের বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে কাতারের। আঞ্চলিক রাজনীতির আবহটা টের পাওয়া গেল দেশ দুটির মধ্যকার ফুটবল লড়াইয়েও।
ম্যাচটিতে কাতারের জন্য পরিবেশ মোটেও অনুকূলে ছিল না। খেলা শুরুর আগে দেশটির জাতীয় সঙ্গীত বাজার সময় আরব আমিরাতের সমর্থকরা দুয়ো ধ্বনিতে ফেটে পড়ে। ঘটে জুতা ছোড়াছুড়ির ঘটনাও।
বৈরী পরিবেশটাই যেন প্রেরণা যুগিয়েছে কাতার খেলোয়াড়দের। হারলেও যে পড়তে হতো আরও অস্বস্তিকর পরিবেশে। দারুণ ফুটবল খেলে সংযুক্ত আরব আমিরাতে জালে চারটি গোল দেয় তারা।
ডি-বক্স থেকে ডান পায়ের শটে ম্যাচের ২২তম মিনিটে কাতারকে এগিয়ে নেন উইঙ্গার বোলেম খুখি। প্রথমার্ধেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে অতিথিরা। গোল করেন ফরোয়ার্ড আলময়েজ আলি।
বিরতির পর হাসান আল হাইদোস ও হামিদ ইসলাইল গোল করলে বিশাল জয় নিশ্চিত হয় ২০২২ সালের বিশ্বকাপ আয়োজকদের।
প্রতিটা গোল হজমের পর ক্ষোভে আরও ফেটে পড়ে স্থানীয় সমর্থকরা। করে বোতল ছোড়াছুড়ি। তৃতীয় গোলের পর স্বাগতিক দর্শকদের ছোড়া একটি বোতলে মাথায় আঘাত পান কাতারের মিডফিল্ডার সালেম আল-হাজরি।
ম্যাচ শেষে কাতারের কোচ ফেলিক্স সানচেস বলেন, “পরিস্থিতি সহজ ছিল না। তবে ছেলেরা অবগত ছিল যে, ম্যাচটি উত্তেজনাপূর্ণ হবে। তারা তাদের আবেগ খুব ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে। আমি তাদের নিয়ে গর্বিত।”
ফাইনালে কাতারের প্রতিপক্ষ এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দেশ জাপান। সোমবার প্রথম সেমি-ফাইনালে ইরানকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে তারা।
প্রতিযোগিতাটির সবচেয়ে সফল দল শুক্রবার ফাইনালে কাতারের মুখোমুখি হবে।
