দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারের কাছ থেকে ২০টি ডিজেল ইলেকট্রিক রেল ইঞ্জিন কিনছে সরকার। কোরিয়ার হুন্দাই রোটেম কোম্পানি এসব ইঞ্জিন সরবরাহ করবে। এতে সরকারের মোট খরচ হবে ৮৪১ কোটি টাকা।
গতকাল বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই রেল ইঞ্জিন কেনার প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে সভায় কমিটির সদস্য ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, কোরিয়া থেকে ২০টি এমজি ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ (রেল ইঞ্জিন) সংগ্রহের একটি ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন করেছে কমিটি। সরকারিভাবে এই ইঞ্জিন কেনা হচ্ছে। এজন্য সরকারের নিজস্ব তহবিল ও কোরিয়ার এক্সিম ব্যাংক অর্থায়ন করবে।
এর আগে গত অক্টোবরে রাজধানীর রেলভবনে কোরিয়ার হুন্দাই রোটেম কোম্পানি ও বাংলাদেশ রেলওয়ের মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়েছে। এর চুক্তির আওতায় দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানিটির কাছ থেকে ১ হাজার ৯৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭০টি মিটার গেজ ডিজেল ইলেকট্রিক ইঞ্জিন (লোকোমোটিভ) কিনছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
চুক্তি অনুযায়ী দেড় থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে ইঞ্জিনগুলো সরবরাহ করবে কোরিয়া। ইঞ্জিনগুলোর প্রতিটি ১ হাজার ৮০০ অশ্বক্ষমতাসম্পন্ন ও পরিবেশবান্ধব। বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়েতে ১৭৮টি মিটারগেজ ইঞ্জিন রয়েছে। এর মধ্যে ১৩৯টির বয়স ২০ বছরের বেশি, যেগুলোকে মেয়াদোত্তীর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে রেল মন্ত্রণালয়।
ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় গাজীপুরের ভগড়া বাজার সংযোগস্থল থেকে কালিয়াকৈর বাইপাস সংযোগ পর্যন্ত সড়ক দুই লেন থেকে চার লেনে উন্নীত করা ও ১০টি ফ্লাইওভার নির্মাণে ৩৩১ কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। ফলে এ প্রকল্পটির এ অংশে মোট ব্যয় দাঁড়াল ১ হাজার ৩৫ কোটি টাকা। একই প্রকল্পে কালিয়াকৈর বাইপাস থেকে দুল্লামারি রোড পর্যন্ত দুই লেন সড়ককে চার লেনে উন্নীত করাসহ ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস নির্মাণ প্রকল্পের ৩১৩ কোটি টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে। ফলে প্রকল্পটির এ অংশে মোট খরচ হবে ৯৫৮ কোটি টাকা। একই প্রকল্পে দুল্লামারি থেকে টাঙ্গাইল রুট দুই লেন থেকে চার লেন করতে ২৩২ কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়। এ অংশের নির্মাণকাজে মোট ব্যয় হবে ৮৯০ কোটি টাকা।
বৈঠকে ৩২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সচিবালয়ে ২০ তলাবিশিষ্ট নতুন অফিস ভবন প্রকল্প কাজের ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। জেকেবি অ্যান্ড কোম্পানি এ কাজ পেয়েছে।
