সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

দেশ রূপান্তরকে আ.লীগ নেতা আবদুর রহমান

উপজেলায় দলবাজি করে সুবিধা নিয়ে জেতা যাবে না

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:২৮ এএম

আসন্ন উপজেলা নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান। তিনি বলেন, “এ নির্বাচনে কারও জন্য কোনো ‘কম্প্রোমাইজ’ হবে না। দলবাজি করে বাড়তি সুবিধা নিয়ে নির্বাচনে কারও জেতার কোনো সুযোগই নেই।” তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থীরাই জিততে পারবেন। কোনো ধরনের সুবিধা আশা করে কেউ জিততে চাইলে সেই আশা পূরণ হবে না।’

গত বুধবার রাজধানীর পরীবাগে নিজ বাসায় দেশ রূপান্তরকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে আসন্ন উপজেলা নির্বাচন নিয়ে এসব কথা বলেন আওয়ামী লীগের এই নেতা। এছাড়া সমসাময়িক রাজনীতি, দলের সম্মেলন, নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ, নতুন মন্ত্রিসভা, উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ না করা, ডাকসু নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে করা প্রশ্নেরও খোলামেলা জবাব দেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ এই সময়টাকে কেন বেছে নিয়েছেন এ প্রশ্নের জবাবে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবদুর রহমান বলেন, ‘এই ব্যাখ্যা নিশ্চয়ই তারা দিতে পারবেন। তবে ডাকসু নির্বাচন সবারই প্রত্যাশা। ডাকসু নির্বাচনে অবশ্যই সুষ্ঠু, সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য কতগুলো পূর্বশর্ত প্রয়োজন। যেমন শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নিরপেক্ষ ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করা; উগ্র সন্ত্রাসবাদ, মৌলবাদী গোষ্ঠীর লেজুড়বৃত্তি করা ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের ডাকসু নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে হবে। ভোটের আগে এগুলো বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে। ডাকসু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। ডাকসু নেতৃত্ব ছাত্রদের অধিকার নিয়ে কথা বলুকÑ এ প্রত্যাশা করি।’

বিএনপি উপজেলা নির্বাচনে না আসার ঘোষণা দিয়েছে, তাহলে এই নির্বাচন কতখানি গুরুত্ব বহন করবে এই সম্পর্কে মতামত চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এটা তাদের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চর্চা হবে না। কেন আসবে না, তা বোধগম্য নয়। নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন হবে।’ এ সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি যেকোনো নির্বাচনে অপরিহার্য-অনিবার্য না। ওই দল ছাড়াও অনেক রাজনৈতিক দল নির্বাচনে আসবে। বিএনপি নির্বাচনে না এলেও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয়েছে তা প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব হবে।’ বিএনপি উপজেলা নির্বাচনে না আসলেও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে ‘ভিন্ন চিন্তার’ জন্যও আওয়ামী লীগ প্রস্তুত আছে বলে জানান তিনি।

ভিন্ন চিন্তা কীÑ এই প্রশ্নের জবাবে আবদুর রহমান বলেন, ‘অনেক স্বতন্ত্র প্রার্থী হবে।’ নির্বাচন কি আসলে নিরপেক্ষ হবে, জনগণ কি আস্থা রাখবেÑ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। এর জন্য নির্বাচন কমিশন, সরকার, আওয়ামী লীগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা আছে। নিশ্চয়ই নিñিদ্রভাবে সেই দায়িত্ব পালন করবে সরকার।’ তিনি আরও বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচন কোনো শক্তি যাতে বিতর্কিত করতে না পারে এজন্য সরকার বদ্ধপরিকর।’

একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের দেশকে দুর্নীতিমুক্ত ও সুশাসন নিশ্চিত করার ঘোষণা প্রসঙ্গে আবদুর রহমান বলেন, ‘একটি উন্নয়নশীল দেশে দুর্নীতি-সুশাসনের কিছুটা হলেও দুর্বলতা থাকে। দুর্নীতি-সুশাসনের ঘাটতি একেবারেই ছিল না তা বলব না। বিভিন্ন স্তরে আইনের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে একটি মহল দুর্নীতির সুযোগ নেয়। পাবলিক পারসেপশনও আছে দুর্নীতি ছিল। কিন্তু শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার এবার দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স মনোভাব এরই মধ্যে জানান দিয়েছে।’ এই অভিযানে দলের কারও জন্য ভিন্ন মনোভাব থাকবে কি নাÑ জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর গুরুত্বপূর্ণ এই নেতা বলেন, ‘নিশ্চয়ই, দলের কেউ অপরাধী হলেও মাফ পাবেন না।’ দলীয় বিবেচনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হলে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান সফল হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দলীয় সম্মেলন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘নিয়মিত সম্মেলন হওয়া জরুরি। সম্মেলন শুধু নেতৃত্ব বদলের মাধ্যমই নয়, রাজনীতির কতগুলো নতুন চিন্তার উদ্ভব হয় সম্মেলনে। দলকে গতিশীল ও বেগবান করার পরিণতিই হলো জাতীয় সম্মেলন। এখানে সবার সঙ্গে সবার দেখা হয়, কথা হয়। শেখ হাসিনার নতুন নির্দেশনা থাকে। সময়মতো সম্মেলন সবার কাম্য।’

বর্তমানে আওয়ামী লীগে ‘হাইব্রিড’ একটি অতি পরিচিত শব্দ, এটিকে আপনি কীভাবে দেখেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ক্ষমতাকে কেন্দ্র করে যারা দলে ভেড়ে, সুযোগ ভোগ করতে চায় তারাই হাইব্রিড। এবার হাইব্রিডদের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নিজেও সতর্ক। তিনি দলের সব নেতাকে হাইব্রিডদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলেছেন।’

নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ কী বলে আপনি মনে করছেন এ প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এই নেতা বলেন, ‘নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ অনেক রয়েছে। তা বাস্তবায়ন আরও বড় চ্যালেঞ্জ। চ্যালেঞ্জের মধ্যে অন্যতম দরিদ্রতা দূর, দুর্নীতি নির্মূল, সন্ত্রাস মোকাবিলা, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান, সরকারের অভাবনীয় উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা ও মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনের নিশ্চয়তা বিধান করা। এগুলো করতেই হবে। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সদিচ্ছার বার্তা সবাই বুঝলে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা অসম্ভব হবে না।’

উপজেলা নির্বাচনে তৃণমূল থেকে প্রার্থীর নাম আসবে, এরই ভিত্তিতেই কি মনোনয়ন চূড়ান্ত হবে এই প্রশ্নে আবদুর রহমান বলেন, ‘চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণার আগে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা আরও কিছু উপাদান যোগ করে বেছে নেবেন নৌকার প্রার্থী। এ ক্ষেত্রে রাজনীতিতে ভূমিকা ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থীদেরই মনোনয়ন দেওয়া হবে।’ এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘এখন সবাইকে নির্বাচনে রাখা হবে, পরে অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।’

নতুন মন্ত্রিসভা কেমন জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সাবেক এই সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘নতুন মন্ত্রিসভা ভালো হয়েছে। আমি আশা করি, নতুন মন্ত্রিসভার সবাই ভালো করবেন। মন্ত্রিসভার প্রধান শেখ হাসিনা সৎ রাজনীতিকের শ্রেষ্ঠত্ব এরই মধ্যে অর্জন করেছেন। তার নির্দেশনা অনুসরণ করে পথ চললে দেশ থেকে দুর্নীতি উচ্ছেদ হতে বাধ্য। সুশাসনও নিশ্চিত হবে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত