শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

প্রতিবাদ সভায় খন্দকার মাহবুব

খালেদাকে ছাড়া নির্বাচনে যাওয়া কতটা সঠিক ছিল

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৫:০৪ এএম

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে নির্বাচনে যাওয়া কতটা সঠিক ছিল, সেটা ইতিহাস বিচার করবে।

গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের মওলানা আকরম খাঁ হলে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরামের উদ্যোগে খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় তিনি এ কথা বলেন।

মাহবুব হোসেন বলেন, ‘আইনের সাধারণ প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা কঠিন হবে। কারণ বর্তমান সরকার সব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তাই আইনের শাসন প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে খালেদা জিয়াকে আইনি প্রক্রিয়ায় বের করা যাবে না। খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে বিএনপি নির্বাচনে গেছে। দলের এ সিদ্ধান্ত কতটা সঠিক হয়েছে, তা বিএনপি নেতারা একদিন জবাব দেবেন এবং ইতিহাসও সে কথা বলবে।’

তার দাবি, কোনো রাজনৈতিক মামলার কারণে খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে। তাই আইনি প্রক্রিয়ায় তার মুক্তি হবে না। সরকারের সদিচ্ছা অথবা সরকারকে বাধ্য করা ছাড়া খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যাবে না।

আন্দোলনের আহ্বান জানিয়ে খন্দকার মাহবুব বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার একমাত্র উপায় রাজপথ উত্তপ্ত করা। যতদিন পর্যন্ত রাজপথ উত্তপ্ত না হবে, ততদিন পর্যন্ত খালেদা জিয়াকে আইনি প্রক্রিয়ায় জেল থেকে বের করা যাবে না। এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস।’

দল ও জোটের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্ট এবং বিএনপি নেতাদের প্রতি অনুরোধ, আপনারা একটি মাত্র ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করুন। সেটা হলো খালেদা জিয়ার মুক্তি।’

বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান অভিযোগ করে বলেন, ‘আজকের সরকার প্রতারণা করে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের সহায়তায় ক্ষমতায় এসেছে। বঙ্গবন্ধু বাকশাল করেছিলেন, আইন করে এক দল করেছিলেন। এবার শেখ হাসিনা প্রহসনের ভোটে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছেন। আগামী নির্বাচন অতি শিগগিরই হবে। জনগণকে আশা-আকাক্সক্ষা থেকে বঞ্চিত করে কোনো সরকার, কোনো দল ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। এ সরকারকেও সরে যেতে হবে।’

সরকারের ‘চা-চক্রকে’ পরিহাস উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মানুষ অনেক আশা নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের আহ্বানে ভোট দিতে গিয়েছিল। তবে তা (ভোট দেওয়া) থেকে তারা বঞ্চিত হয়েছে। আর আজকে সেই দলকেই আপনারা চা-চক্রে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন। এর চেয়ে বড় পরিহাস আর হতে পারে না।’

প্রতিবাদ সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আতাউর রহমান ঢালী, নাগরিক আন্দোলন ফোরামের উপদেষ্টা সাঈদ আহমেদ আসলাম। প্রতিবাদ সভার সঞ্চালনায় ছিলেন নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এম জাহাঙ্গীর আলম।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত