সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সমস্যা বিএনপির নয়, সমস্যা জাতির: ফখরুল

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:৩১ পিএম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশ ও জাতিকে বাঁচান। সমস্যা আজকে জাতির, সমস্যা বিএনপির নয়।

শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলরুমে ‘আওয়াজ’ নামের একটি সংগঠন আয়োজিত ‘সহিংসতা ও নারী : বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আজকে দেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, জাতি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আপনি যা অর্জন করেছেন সমস্ত অধিকার ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আর আপনারা বলছেন, বিএনপির সমস্যা। বিএনপির কোনো সমস্যা নাই। বিএনপি ইজ ইউনাইটেড।”

তিনি বলেন, “যে দেশে জনগণের কোনো নিরাপত্তা নেই, সংবিধানসম্মত একটি নির্বাচন করতে গিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে দখল করে নেওয়া হয়, সেখানে নারী নির্যাতনের মতো বিষয়গুলোর বিচার পাওয়া যাবে এটা মনে করার কোনো কারণ নেই।”

মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা সবাই জানি গত ১০ বছর ধরে বাংলাদেশে একটি দলের শাসন চলছে। তারা ছলে বলে কৌশলে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য রাষ্ট্রকে পুরোপুরিভাবে ধ্বংস করে দেওয়ার উপক্রম করেছে। ক্ষমতার জন্য রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করেছে। এর চেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার আর কিছু হতে পারে না।”

তিনি বলেন, “আজকে সংসদ চলছে, এই সংসদ কার কথা বলবে। এই সংসদ কি মহিলাদের ওপর যে নির্যাতন হচ্ছে সে বিষয়ে কথা বলবে? বলবে না, কারণ হচ্ছে তাদের লোকেরাই এই কাজগুলো করছে। তাদের এই সংসদ বসানোর নৈতিক কোনো বৈধতা নেই। কারণ তারা নির্বাচিত নয়। নির্বাচনের নামে গোটা জাতির প্রতি একটি নিষ্ঠুর প্রহসন হয়েছে।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে পত্র-পত্রিকা, টেলিভিশনের টকশোগুলোতে তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা বিএনপি আর ঐক্যফ্রন্টের দোষত্রুটি খুঁজে বেড়ান। অথচ আওয়ামী লীগ যে ইচ্ছাকৃতভাবে রাষ্ট্রকে ধ্বংস করে দিল, সংবিধানকে লঙ্ঘন করলো সে বিষয়গুলো বলার সাহস তারা পান না।

তিনি বলেন, একটা ফ্যাসিবাদ যখন চলে, তার সর্বপ্রথম কাজটা থাকে ভয়ের সৃষ্টি করা, ত্রাস সৃষ্টি করা। জনগণের মধ্যে একটা ভীতি ছড়িয়ে দেওয়া। এই ভীতিতে বাস-রেস্টুরেন্টে কেউ কথা বলতে চান না। তাদের সফলতা এই জায়গায়, তারা একটি ভয়ভীতি ছড়িয়ে দিয়েছে। ফলে এখন আর কেউ কথাই বলতে চায় না।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে ইকোনমিস্টের মতো পত্রিকা ক্যাপশন করছে- গণতন্ত্রের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ গোটা পৃথিবীর মিডিয়া জানে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের মৃত্যু হয়েছে।

খালেদা জিয়াকে একটি নির্জন কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, “এটা কি তার প্রাপ্য? তিনি জামিন পেয়েছেন কিন্তু তাকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না। এখন পর্যন্ত ৯৮ হাজার মামলায় আমাদের ২৭ লাখ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে। ন্যায়কে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। আপনারা ভয় পাবেন না, সারাদেশের মানুষ আপনাদের সঙ্গে আছে। আওয়ামী লীগ জনগণের কাছ থেকে চিরদিনের জন্য দূরে চলে গেছে। সুতরাং এখন সাহস নিয়ে লড়াই করতে হবে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য প্রফেসর সাহিদা রফিক।

এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, প্রফেসর ড. দিলারা চৌধুরী, প্রফেসর ড. তাজমেরী ইসলাম, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, বিলকিস ইসলাম প্রমুখ।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত