শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

একেই বলে শনির দশা! রাতে পরীক্ষা দিল ৫২ শিক্ষার্থী

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:৩৪ এএম

সারা দেশে একযোগে গতকাল শনিবার সকাল থেকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হলেও গোপালগঞ্জ ও কুষ্টিয়ায় ধর্মীয় বিধি মেনে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী ৫২ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছেন রাতের বেলায়। প্রটেস্ট্যান্ট খ্রিস্টান ধারার ‘সেভেন্থ ডে অ্যাডভেন্টিস্ট’ সম্প্রদায়ের অনুসারী এসব শিক্ষার্থীর ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী শনিবার দিনের বেলা লেখা নিষিদ্ধ। তাই সংশ্লিষ্ট বোর্ড কর্র্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে এসব পরীক্ষার্থী সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশ নেন।

তবে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মতো তারাও এদিন সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে কেন্দ্রে হাজির হয়ে বোর্ডের তত্ত্বাবধানে সারা দিন একটি নির্দিষ্ট কক্ষে অবস্থান করে। পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা কক্ষের বাইরে বের হওয়া বা কারও সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পায়নি। এসব শিক্ষার্থীকে বোর্ডের তত্ত্বাবধানে খাবার ও পানি সরবরাহ করা হয়, শৌচাগার ব্যবহারেও ছিল বাধ্যবাধকতা। রাতে এদের পরীক্ষা নিতে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সচিব, হল সুপার, সহকারী হল সুপার, কক্ষ পরিদর্শক ও পুলিশসহ সবাই দায়িত্ব পালন করেন। 

প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :  

গোপালগঞ্জ : মুকসুদপুর উপজেলার কেলগমুখার্জী সেমিনারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ‘সেভেন্থ ডে অ্যাডভেন্টিস্ট’ সম্প্রদায়ের অনুসারী ৫১ পরীক্ষার্থী স্থানীয় জলিরপাড় জে কে এম বি মল্লিক উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে রাতে পরীক্ষায় অংশ নেয়।

গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, ‘ঢাকা বোর্ডের অনুমতিতে বিশেষ ব্যবস্থায় সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এসব শিক্ষার্থীর পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়।’

কেন্দ্র সচিব নির্মল কুমার সাহা বলেন, ‘ওই পরীক্ষার্থীরা সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে কেন্দ্রে প্রবেশ করে একটি নির্দিষ্ট কক্ষে অবস্থান করে। পরে রাত ৯টায় পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র ত্যাগ করে তারা।’

কুষ্টিয়া : কুমারখালী উপজেলার পারফেক্ট ইংলিশ ভার্সন স্কুলের ছাত্র রিকি হালদার রাতে পরীক্ষা দেয় স্থানীয় কুমারখালী এম এন পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে।    

কেন্দ্র সচিব ফিরোজ মোহাম্মদ বাশার বলেন, ‘যশোর শিক্ষা বোর্ডের অনুমতির পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ ব্যবস্থায় সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত রিকির পরীক্ষা নেওয়া হয়। এতে আমি ছাড়াও হল সুপার, সহকারী হল সুপার, কক্ষ পরিদর্শক ও পুলিশ সদস্যসহ মোট ১০ জন দায়িত্ব পালন করেছেন।’ 

এবার এসএসসির রুটিন অনুযায়ী শনিবারগুলোতে (২, ৯, ১৬ ও ২৩ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে বাংলা প্রথম পত্র, গণিত, রসায়ন ও উচ্চতর গণিত পরীক্ষা) রাতে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিল গোপালগঞ্জ ও কুষ্টিয়ার এই ৫২ শিক্ষার্থী। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মীয় বিধিবিধানের বিষয়টি আমলে নিয়ে সবগুলো শনিবারের পরীক্ষা সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা ও যশোর শিক্ষা বোর্ড।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত