মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

হত্যা নিয়ে বিজিবি মহাপরিচালক

সীমান্তের ওপারে যারা মরছে তারা চুরি করতে যায়

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:৪২ এএম

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে হঠাৎ করেই বেড়েছে হত্যা। এ বছরের জানুয়ারিতে দেশের বিভিন্ন সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাতে ছয়জন নিহত হন। গতকাল শনিবারও লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে নিহত হন আরেক বাংলাদেশি। এ নিয়ে বিজিবির মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, গরু চুরি করতে গিয়ে মারা পড়ছেন বাংলাদেশিরা।

তিনি বলেন, ‘এসব হত্যাকাণ্ড সীমান্তে নয়, বরং ভারতের অভ্যন্তরে ঘটছে। শনিবারের (গতকাল) ঘটনাটি ছিল জিরো লাইনের প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে ভারতের অভ্যন্তরে। বাংলাদেশি কিছু নাগরিক গরু চুরি করার জন্য ভারতীয় সীমান্তের ভেতরে প্রবেশ করে আর তারা গুলিতে মারা যায়। গরু চুরির উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে ভারতের ভেতরে ঢুকলে সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় আনা যাবে না।’

বিএসএফের গুলিতে ও নির্যাতনে জানুয়ারি মাসে ছয় বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজা বলেন, ‘জানুয়ারি মাসেই ঠাকুরগাঁওয়ে চারজন, নীলফামারী ও রাজশাহীতে একজন করে মোট ছয়জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। সীমান্তে হত্যা বন্ধে ভারত সরকারের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ ভারতীয় কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে সীমান্তে হত্যা বন্ধে জোরদার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

গতকাল লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার সীমান্তের ওপারে বিএসএফের গুলিতে আশাদুল ইসলাম (২৮) নামের এক বাংলাদেশি নিহত হন। ভোরে উপজেলার বাউরা ইউনিয়নের ডাঙ্গাটারী সীমান্তের ওপারে ভারতের নিউ কুচলিবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। নিহত আশাদুল ইসলাম উপজেলার বাউরা ইউনিয়নের নবীনগর গ্রামের বাসিন্দা।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের জানুয়ারি মাসে সাতজন, ফেব্রুয়ারিতে ছয়, মার্চে এক,  এপ্রিলে পাঁচ, মে-তে চার; জুন, জুলাই ও আগস্টে একজন করে তিনজন, সেপ্টেম্বরে নয়, অক্টোবরে পাঁচ ও নভেম্বরে তিনজন বাংলাদেশি নাগরিক সীমান্তে গুলি, নির্যাতনসহ বিভিন্নভাবে নিহত হয়েছেন। তার ধারাবাহিকতা এখনো চলছে। চলতি বছর এটা বেড়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিবির ডিজি সাফিনুর ইসলাম বলেন, ‘যারা মারা যাচ্ছে, এরা কেউ সীমান্তে মারা যাচ্ছে না। মারা যাচ্ছে ভারতের ভেতরে। এরা চুরি করার জন্য ভারতে প্রবেশ করে। বিশেষ করে ভারতীয় নাগরিকদের গোয়ালে প্রবেশ করে গরু চুরি করে নিয়ে আসে। তারা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে এবং গরু চুরির সময় গুলিতে মারা যায়।’

নিহত বাংলাদেশিদের কেউই জিরো লাইনে প্রাণহানির শিকার হচ্ছে না বলে জানান বিজিবি মহাপরিচালক। তিনি বলেন, ‘সীমান্ত বলতে জিরো লাইন থেকে বাংলাদেশের ভেতরের অংশ বোঝায়। কিন্তু এই অংশে কেউ নিহত হচ্ছে না।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত